1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
বিরল রোগে ভুগছে জিদনী, পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান - দৈনিক প্রথম ডাক
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো বাড়েনি: শামা ওবায়েদ সম্পত্তিতে সমঅধিকার ছাড়া নারীর পূর্ণ সমতা সম্ভব নয়: মহিলা পরিষদ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান, সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নিপুন রায়কে ফোনে কথা বলতে দেখে স্পিকার, ‘লবিতে গিয়ে কথা শেষ করে আসুন’ এনআইডি অনিয়মে ইসির ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত তামিমকে ছাড়িয়ে সবার উপরে হৃদয় যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ২, আহত ৩ পুলিশ কর্মকর্তা

বিরল রোগে ভুগছে জিদনী, পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০৩ বার দেখা হয়েছে
বাবা-মা’র সঙ্গে জিদনী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || বই-খাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল ৯ বছরের শিশু জিদনীর। সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা, হাসি-আনন্দে কাটার কথা ছিল তার শৈশব। কিন্তু সেই বয়সে বিরল রোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। জন্মের পর থেকেই জিদনীর বাম হাত অস্বাভাবিক ফোলা। অর্থের অভাবে চিকিৎসাও বন্ধ। ফলে জিদনীর জীবন পড়েছে অনিশ্চয়তায়।

জিদনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার তেরকান্দা গ্রামের ভ্যানচালক দানু মিয়ার দ্বিতীয় কন্যা। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও চার মেয়েকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা চকলেট ফ্যাক্টরি এলাকায় ভাড়া বাসায় বাস করছেন দানু মিয়া। দিনভর ভ্যান চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে সংসার। ফলে মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, জিদনীর শরীরে ‘নিউরোফাইব্রোমাটোসিস’ অথবা ‘ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন’ ধরনের বিরল রোগের লক্ষণ দেখা গেছে। এসব রোগে স্নায়ু, চামড়া কিংবা রক্তনালীর টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আক্রান্ত অঙ্গ ফুলে যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে তা টিউমারের মতো আকার ধারণ করতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত অঙ্গ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জিদনীর চিকিৎসার জন্য ২০১৮ সালে প্রথমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার বাম হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ২০২৩ সালে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা তিন মাস পর আবারও অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ লাখ টাকা চিকিৎসার জন্য খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে জিদনীর পরিবার।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দ্রুত আরও দুই থেকে তিনটি অস্ত্রোপচার করা গেলে জিদনীর হাত রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ টাকা। এরপর ধাপে ধাপে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে। কিন্তু ভ্যানচালক বাবার পক্ষে এই বিপুল অর্থের জোগান দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

জিদনীর মা মুন্নী আক্তারের কণ্ঠে তাই হতাশা আর অসহায়ত্বের ছাপ। তিনি বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যান, মেম্বার, সমাজসেবীসহ অনেকের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাইনি। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। মেয়েটা স্কুলেও যেতে পারে না। তার হাত দেখে অন্য শিশুরা ভয় পায়। তাই ওর পড়ালেখাও বন্ধ হয়ে গেছে। একজন মা হিসেবে মেয়ের এই কষ্ট আর দেখতে পারছি না।”

বিরল রোগের কারণে শুধু শারীরিক কষ্ট নয়, জিদনী হারিয়েছে তার স্বাভাবিক শৈশবও। অন্য শিশুরা যখন স্কুলে যায়, খেলাধুলা করে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটায়, তখন জিদনীকে ঘরেই থাকতে হয়। নিজের অস্বাভাবিক হাতের কারণে মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টি ও অন্য শিশুদের ভয় পাওয়ার বিষয়টিও তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়।

ভ্যানচালক বাবা দানু মিয়ার চোখে এখন একটাই স্বপ্ন, মেয়েটি যেন আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। অর্থের অভাবে যে চিকিৎসা থেমে গেছে, মানুষের সহযোগিতা পেলে সেটিই আবার শুরু করতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন একটি বিরল রোগ। এর চিকিৎসা আমাদের হাসপাতালে সম্ভব নয়। সম্ভব হলে জিদনীর অস্ত্রোপচার এখানেই বিনামূল্যে করা যেত এবং হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হতো। তবে এ রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষজন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটির হাতটি সুস্থ করা সম্ভব হতে পারে।”

জিদনীর পরিবার এখন সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবিক হৃদয়ের মানুষের কাছে সহযোগিতার আকুতি জানিয়েছে। একটু সহযোগিতা ৯ বছরের এই শিশুর চিকিৎসা আবার শুরু করার সুযোগ করে দিতে পারে। আবারও হাসিতে ভরে উঠতে পারে থমকে যাওয়া শৈশব। তার বিষয়ে আরো বিস্তারিত জেনে সহায়তা পাঠানো যাবে ০১৭২২-১৯৬২৫৫ এই নাম্বারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT