নিজস্ব প্রতিবেদক || রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের নিচতলায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে এ প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ পরিচালক মনির হোসেন বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে। সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ হলে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা থাকবে।”
তিনি বলেন,“এতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব থাকছেন। নির্বাচন কমিশনের সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলও সভায় অংশ নেয়।”
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সাড়ে তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় থাকলেও বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের সদস্যরা সংসদ কক্ষে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনে সিইসির কাছে জমা দিতে হবে। মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের কার্যক্রমও সিইসির কার্যালয়ে সম্পন্ন হবে।
একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা নির্বাচনি কর্তার কাজে সহায়তা করবেন।
বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ৩৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। এর মধ্যে বিএনপির ২৪৭ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জন, স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণপরিষদ, খেলাফত মজলিশ ও জাগপার একজন করে সদস্য রয়েছেন।
সংবিধানের ১৯৭২ সালের দ্বিতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। পরে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে প্রকাশ্য ভোটের বিধান করা হয়।