আন্তর্জাতিক ডেস্ক || মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি চুক্তির জন্য ইরানের দেওয়া শর্তের জবাবে পাল্টা দাবি জানিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ট্রাম্পের এই বাগাড়ম্বরপূর্ণ পদক্ষেপটি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রচেষ্টাকে আরো জটিল করে তুলতে পারে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে রয়টার্স।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাব তেহরানের ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবির একটি জবাব। ইরান দাবি করেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য অর্থ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে নিহত হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও ইরানের নিজস্ব বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেছেন, “৫০ বছরের সময়কালে তারা যে ক্ষতি করেছে আমরা তার জন্য অর্থ চাইতে যাচ্ছি। সুতরাং যদি ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, আমি মনে করি ইরানের সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।”
পরে ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “এখন আমিও একইভাবে ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি, তাদের রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা এবং জেনারেল সোলেইমানির নেতৃত্বে পরিচালিত কুখ্যাত সংঘাতগুলোর মাধ্যমে নিহত ও গুরুতরভাবে আহত হওয়া সকল মানুষের জন্য। এর মধ্যে ইউএসএস কোলে নিহতদের পরিবার এবং যুদ্ধে নিহত আরো হাজার হাজার মানুষও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, গত ৫০ বছরে ইরানের হাতে নিহত লাখ লাখ নিরীহ বিক্ষোভকারীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত, গত পাঁচ মাসে নিহত ৫২ হাজার জনের কথা তো বলাই বাহুল্য।”
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার লক্ষ্যে চলমান সতর্ক শান্তি আলোচনায় ইরানের নেতাদের কাছে এই দাবিগুলো সম্ভবত শুরুতেই টিকবে না। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালানোর আগে এই প্রণালি দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল বাণিজ্য হতো। ট্রাম্প এবং অন্যান্য শীর্ষ আলোচকরা বহুবার দাবি করেছেন যে একটি চুক্তি আসন্ন, যদিও বাস্তবে এমন কিছুই ঘটেনি।