আন্তর্জাতিক ডেস্ক || গত সোমবার (১০ আগষ্ট) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। বৈঠক শেষ করেই তড়িঘড়ি দিল্লি ছোটেন দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বৈঠকে ত্রিবেদী ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি ‘দীর্ঘস্থায়ী’ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে মোদির ‘দিকনির্দেশনা’ চান বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই জানিয়েছেন।
কিন্তু হঠাৎ করেই কেন মোদির সঙ্গে ত্রিবেদী-এর এই তড়িঘড়ি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক? দ্বিপক্ষীয় শীতল সম্পর্কে তবে কি উষ্ণতার ছোঁয়া আসছে ? ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে দিল্লির সক্রিয় এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একে ইতিবাচক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কনক সরকার বলেন ,আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিল দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব—এই বার্তা দুই পক্ষই জোরালোভাবে দিচ্ছে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে বৈঠকের সারমর্ম তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতীয় কূটনীতিকরা লিখিত আকারে সাউথ ব্লকে বিবৃতি পেশ করেন। এক্ষেত্রে যেহেতু হাই কমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করতে সশরীরে নিজেই চলে এসেছেন বিষয়টা নজরে আসার মতই ঘটনা। ভারতের তরফে বার্তা স্পষ্ট- তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কোনভাবেই সম্পর্কের শীতলতা ধরে রাখতে চায় না।
ভারতের সাবেক কূটনৈতিক মোহিতলাল বসু রাইজিং বিডি-কে বলেন, মোদি-ত্রিবেদীর বৈঠকের একটাই জিস্ট ,ঢাকা থেকে পাওয়া বার্তা ও প্রত্যাশা সরাসরি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল। এর ব্যাকগ্রাউন্ডে কী ফ্যাক্টর কাজ করছে সেটা আন্দাজ করা যেতে পারে, তবে নির্ভুলভাবে বলা সম্ভব হবে না। যেহেতু দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেরাই আলোচনার মধ্যে ঢুকে পড়েছে তাই এটা বলা যায় যে সমস্যা যা যা আছে অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। তারেক রহমানের ভারত সফর অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে যদি তিনি ভারত সফরে রাজি হন। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তিনি ভারত সফর করবেন এমনটাই আশা করছি।
ভারতীয় সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এবং ‘রেড ল্যান্টার্ন অ্যানালিটিকা’- এর প্রধান উপদেষ্টা অয়নজিৎ সেন বলেন, বাংলাদেশ ডেস্ক এই মুহূর্তে সরাসরি পরিচালিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাধ্যমে। ফলে ঢাকার দাবি সংক্রান্ত প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়তো নিজেই অবগত থাকতে চেয়েছেন।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাংবাদিক সম্মেলন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং হাদী হত্যার আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত ঢাকার আর্জি বা আরো অনেক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে উঠে এসেছে। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে যেসব বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবে সেই রাষ্ট্রের মূল দাবি হিসেবেই ধরে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে এমন কিছু দাবি হতে থাকতে পারে যা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো জরুরি মনে হয়েছে হাইকমিশনারের।
এছাড়া আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের যোগদান অথবা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ভারত সফর আলোচনার টেবিলে নিশ্চিতভাবে ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বৈঠকের মাধ্যমে একটা বিষয় পরিষ্কার- দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ ও আস্থার সংকট কাটাতে এই কূটনৈতিক তৎপরতার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে।