1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
সবজি ডিম মাছ ও মুরগির দামে আগুন - দৈনিক প্রথম ডাক
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

সবজি ডিম মাছ ও মুরগির দামে আগুন

তানভীর আহমেদ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

তানভীর আহমেদ || ভারত থেকে আমদানি বাড়ায় দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম অবশেষে কমতে শুরু করেছে। খুচরা বাজারে কাঁচামরিচের দাম প্রায় অর্ধেকের বেশি নেমে এখন প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মরিচের দামে স্বস্তি মিললেও নিত্যপণ্যের বাজারে বাকি অন্য সব উপাদানে ক্রেতাদের অস্বস্তি কাটেনি। সরবরাহ সংকট ও বাড়তি খরচের অজুহাতে ব্রয়লার মুরগি, সোনালী মুরগি এবং চাষের মাছের দাম প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। একই সাথে ডিমের দাম প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মৌসুমী কিছু সবজির দাম সামান্য কমলেও বেশিরভাগ সাধারণ সবজি এখনো কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকার চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, যা মধ্য ও নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে।

শনিবার (১৫ আগষ্ট) রাজধানীর ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার কাঁচামরিচের আমদানির অনুমতি দেওয়ার ফলে আস্তে আস্তে বাজারে দাম কমতেছে। এখানে খুচরা বাজারে মানভেদে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল প্রায় দ্বিগুণ।

এদিকে, বাজারে এখন অন্যান্য প্রায় সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার উপরে। এখন বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থাকে ১৪০টাকা। মানভেদে দেশি শসা ১২০ থেকে ১৫০টাকা, করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০টাকা কেজি দরে। গাজর (দেশি) ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা থেকে ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, টমেটো মানভেদে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দুল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ আকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০টাকা, রসুন (দেশি) ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উর্ধ্বমুখী ডিম-মাছ ও মুরগির দাম
খামারে উৎপাদন কম ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির প্রভাবে গত সপ্তাহের মত চলতি সপ্তাহেও উর্ধ্বমুখী রয়েছে ডিম-মাছ ও মুরগির দামে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, আকারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে টাকায়।

মুরগির পাশাপাশি উর্ধ্বমুখী ডিমের দামও। এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা। হালি হিসেবে ডিমের দাম এখন ৫০ টাকা বা তারও বেশি।

চলতি সপ্তাহে চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দামও উর্ধ্বমুখী রয়েছে
নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নাঞ্চলের জলাশয় ডুবে গেছে। জলাশয় থেকে চাষের মাছ চলে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় কারণে বাজারে মাছের দাম উর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে আকার ও জাতভেদে অধিকাংশ মাছের দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন বাজারে আকারভেদে চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, আকারভেদে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আকারভেদে দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৫০০টাকা, আকারভেদে রূপচাঁদা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, এবং ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০টাকা এবং একই সাইজের চট্টগ্রামের ইলিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যা বলছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা
বাজারে পণ্যের বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনে সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কেনায় অনেকটা বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কথায় উঠে এসেছে বাজারের চাপের বাস্তব চিত্র।

নিউমার্কেট বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রুবেল আহমেদ প্রথম ডাককে বলেন, “বাজারে ঢুকলেই এখন প্রথমে দাম দেখি, তারপর কী কিনব সেটা ঠিক করি। আগে মাসের বাজারের একটা তালিকা করে বের হতাম, এখন সেই তালিকা নিয়ে বাজারে গেলেও অর্ধেক জিনিস কিনতে পারি না। মুরগি, ডিম, মাছ সবকিছুর দাম একসঙ্গে বেশি হওয়ায় খাবারের তালিকাও ছোট করতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের চাহিদা তো আর কমেনি, শুধু আমাদের সামর্থ্য কমে গেছে। মাসের শেষ দিকে বাজার খরচ চালানো সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়ে। আয় না বাড়লেও এভাবে প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকলে আমাদের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।”

রাজধানীর জিগাতলা সালেক গার্ডেন কাঁচাবাজারে আসা গৃহিণী শাহানুর বেগম প্রথম ডাককে বলেন, “একসময় বাজারে গিয়ে দাম বেশি মনে হলে অন্য দোকানে খুঁজতাম, এখন প্রায় সব দোকানেই একই অবস্থা। এক কেজি সবজি কিনতে গেলেও দুই-তিন ধরনের সবজি নেওয়ার ইচ্ছা বাদ দিতে হয়। ডিমের দাম হিসাব করে কিনতে হচ্ছে, মাছ-মাংস তো এখন বিশেষ দিনের খাবারের মতো হয়ে গেছে। বাচ্চাদের জন্য পুষ্টিকর খাবার দিতে চাই, কিন্তু প্রতিদিনের বাজার খরচের সঙ্গে সেটা মেলানো কঠিন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় যখন সন্তান কোনো খাবার চাইলে শুধু দাম বেশি বলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হয়। বাজারের ওপর কার্যকর নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ করছি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের দিকে নজর দেন।”

একই বাজারের সবজি বিক্রেতা রুহুল আমিন প্রথম ডাককে বলেন, “ক্রেতারা যখন সবজির দাম শুনে আমাদের সঙ্গে তর্ক করেন, তখন আমাদেরও খারাপ লাগে। কিন্তু আমরা যে দামে সবজি কিনে আনি, তার চেয়ে কম দামে তো বিক্রি করা সম্ভব নয়। ভোরে আড়ত থেকে মাল কিনে আনতে হয়, এরপর ভ্যানভাড়া, দোকানের খরচ, নষ্ট হয়ে যাওয়া সবজির লোকসান সবকিছু মিলিয়ে আমাদের খরচ আছে। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা কম কিনছেন, ফলে আমাদের বিক্রিও কমে গেছে। আগে একজন ক্রেতা কয়েক কেজি করে নিতেন, এখন অনেকে আধা কেজি বা এক কেজি নিয়ে চলে যান। তাই বাইরে থেকে মনে হতে পারে আমরা বেশি দামে বিক্রি করে লাভ করছি, কিন্তু বাস্তবে আমরাও চাপের মধ্যেই ব্যবসা করছি।”

রাজধানীর রায়েরবাজারের ডিম ও মুরগির বিক্রেতা সবুজ বেপারি প্রথম ডাককে বলেন, “দাম বাড়লে ক্রেতাদের রাগটা প্রথমে আমাদের ওপরই আসে। অনেকে মনে করেন দোকানদাররা ইচ্ছা করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আসলে আমরা আগের দিনের দামে পণ্য কিনতে পারছি না। মুরগি আনতে গিয়ে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে, ডিমের ক্ষেত্রেও সরবরাহকারীরা বেশি দাম নিচ্ছেন। আমরা যদি ক্রয়মূল্যের নিচে বিক্রি করি, তাহলে দোকান চালানোই সম্ভব হবে না। আবার দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে ক্রেতা কমে যায়। আগে যে পরিমাণ মুরগি বিক্রি করতাম, এখন অনেক কম বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতার কষ্ট আমরা বুঝি, কিন্তু আমাদের অবস্থাটাও খুব একটা ভালো নয়।”

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মাছ বিক্রেতা মো.নজরুল ইসলাম প্রথম ডাককে বলেন, “মাছের দাম শুনে অনেক ক্রেতাই এখন দরদাম করতে করতে শেষ পর্যন্ত মাছ না কিনেই চলে যান। আমরা চাইলেও সব সময় দাম কমাতে পারি না। ভোরে মাছ কিনতে গিয়ে যে দাম দিতে হয়, তার সঙ্গে পরিবহন, বরফ, বাজারের খরচ যোগ হয়। মাছ বিক্রি না হলে আবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ফলে কম দামে বিক্রি করলেও লোকসান, আবার দাম বেড়ে গেলে ক্রেতা কমে যায়, এখন দুই দিকেই সমস্যা। আমরা চাই ক্রেতারা সামর্থ্য অনুযায়ী মাছ কিনতে পারুক, কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকলে খুচরা পর্যায়ে আমাদেরও খুব বেশি কিছু করার থাকে না।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT