দিনাজপুর প্রতিনিধি || দিনাজপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে থানার প্রধান গেট বাস দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। এ সময় থানার গেটে শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিনাজপুরের দশমাইল মোড়, মির্জাপুর কেন্দ্রীয় বাসর্টামিনাল, বটতলী ট্রাক টার্মিনাল, সাধনার মোড়সহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার ওপরে বাস আড়াআড়ি করে রেখে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। এতে করে দিনাজপুর জেলার সঙ্গে আন্তঃ জেলার সব রুট ও ঢাকাগামী বাস চলাছল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
এর আগে, বুধবার রাত ৯টার দিকে বাসা থেকে শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর পরপরই শ্রমিকরা সড়ক অবরোধসহ থানা ঘেরাও করে রেখেছেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শ্রমিকদের অভিযোগ, বাদশাকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে কোতোয়ালি থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি সামনের সড়কে বাস-ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দিয়েছেন তারা।
পাশাপাশি দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় আঞ্চলিক মহাসড়কের দশমাইল, রানীর বন্দরসহ কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেড দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
এদিকে, আজ সকাল ১০টার দিকে কোতোয়াুল থানার গেটের সামনে সংর্ঘষ হয়েছে। সংর্ঘষে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শ্রমিকরা এ সময় চিৎকার করে বলতে থাকেন, ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় ব্যক্তিরা এই হামলা চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শওকত আলী তোতা বলেন, “দিনাজপুর জেলা থেকে বুধবার রাত ১১টা থেকে আজকে বৃহস্পতিবার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। আমরা এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।”
দিনাজপুর ট্রাক, কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদাকাতুল বারী সাদা শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করেছেন।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। বুধবার তাকে গ্রেপ্তারের পর থানার গেটসহ বিভিন্ন সড়ক গাড়ি রেখে বেরিকেড দিয়ে অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। থানার গেট থেকে থেকে গাড়ি সরালে শেখ বাদশাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”