1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
কানাডার ওপর ক্ষোভে সীমান্ত লেকের নাম বদলালেন ট্রাম্প - দৈনিক প্রথম ডাক
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

কানাডার ওপর ক্ষোভে সীমান্ত লেকের নাম বদলালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে
হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ‘লেক অন্টারিও’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || কানাডার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে দুই দেশের সীমান্তবর্তী ঐতিহাসিক জলাশয় ‘লেক অন্টারিও’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, এই সিদ্ধান্ত ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে।

এই নামকরণের মাধ্যমে কানাডাকে কী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য সম্পর্কের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, কানাডা ‘দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছে’।

ট্রাম্প আরো বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। কানাডিয়ান কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছেন। তারা খুব বাজে লোক। তাই লেকের এই পরিবর্তন- লেক অব আমেরিকা- এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি আসলে দীর্ঘদিন থেকেই চিন্তাভাবনা করছিলাম।”

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় কার্নি লেখেন, “আমরা জানি যুক্তরাষ্ট্র বদলে যাচ্ছে। তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক, তাদের পররাষ্ট্রনীতি, তাদের জলাশয়ের নাম। কিন্তু কানাডিয়ানরাও জানে যে বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ হলো একে লেক অন্টারিও বলা- আগেও তা-ই ছিল, এখনও তা-ই এবং ভবিষ্যতেও সমসময় তা-ই থাকবে।”

ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশটি এমন এক সময়ে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যেকার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কয়েকদিন পেরিয়ে গেছে। ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক এড়ানোর জন্য নির্ধারিত ২২ আগস্টের ডেডলাইনের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে এই আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল।

কানাডাও এর জবাবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় মূল্যের ৭০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর কর আরোপ করেছে।

তবে এটিই ট্রাম্পের প্রথম ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের ঘটনা নয়। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই তিনি ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার আদেশ দেন। যদিও মেক্সিকোসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব ও ভূগোলবিদরা সেই পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দেননি। এছাড়া ওবামা আমলে আদিবাসী নাম ‘ডেনালি’ পাওয়া উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম বদলে তিনি আবারো ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কাঠামোর বাইরে অন্য কোনো দেশকে মেনে চলতে বাধ্য করে না।

নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি এক্স-এ এক পোস্টে লিখেন, “আমাদের দেশ যখন এতসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন প্রেসিডেন্ট আজ তার সময় ব্যয় করার জন্য এবং আমেরিকার জনগণ ও বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য এই কাজটিকেই বেছে নিলেন। শিশু সুলভ। একদমই শিশুসুলভ।”

ট্রাম্পের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি সারা ম্যাথিউস আরো কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বাজি ধরে বলতে পারি, আপনি যদি নির্বোধ হন তবে এটি আপনার কাছে দারুণ এক পদক্ষেপ মনে হবে।”

তা সত্ত্বেও থামার কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সংবাদ সম্মেলনে ঠাট্টার ছলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের একটি উপসাগর ও একটি হ্রদ আছে। এখন আমাদের যা দরকার তা হলো মহাসাগর। তাই হয়তো আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করতে হবে। হয়তো আমরা দুটোর নামই বদলে দেব।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT