রংপুর প্রতিনিধি || রংপুরে শিক্ষক পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ায় সাময়িকভাবে তাদের আইনগত সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রংপুর আইনজীবী সমিতির ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে বাদীপক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।
আফতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, আদালতে দেওয়া আসামিদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি, সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত- সব পারিপার্শ্বিক মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই যুবক ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাই সর্বসম্মতিক্রমে রংপুর আইনজীবী সমিতি এত বড় একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের পক্ষে সাময়িক আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পরবর্তীতে এই মামলায় নতুন কোনো তথ্যউপাত্ত না পেলে পারিপার্শ্বিকতার ওপরে এই সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহ, অথবা একমাস, ছয় মাস, বা তারও অধিক সময় বলবৎ থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষক গণপতি হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আফতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে জনমনের সৃষ্ট সব প্রশ্নের রহস্য উন্মোচন হবে। প্রতিষ্ঠা হবে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার।
এসময় দ্রুতগতিতে পুলিশ চার হত্যাকাণ্ডের তদন্তকাজ যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছে, সে বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সকল পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত না করে বরং তদন্ত সংস্থাকে তথ্য দিয়ে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গণমাধ্যমসহ সকল পক্ষকে সহযোগিতা করার কথাও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এসময় শিক্ষক পরিবারের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানান রংপুর আইনজীবী সমিতির অন্যান্য নেতারা।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে সাবেক রংপুর জিলা স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।