সিলেট প্রতিনিধি || সিলেটে হামের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ভয়ানক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এম এ সালাম।
তিনি জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালেই মারা গেছেন ১৭ জন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এম এ সালাম। পরিদর্শনের সময় তিনি হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।
এম এ সালাম বলেন, “এটা সত্যিই খুব ভয়ানক পরিস্থিতি। এখানে যে বিষয়গুলো আমরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শুনেছি, ডাক্তাররা যথেষ্ট সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যেহেতু, এটি ছোঁয়াচে রোগ, সেখানে অনেক রিস্ক, অনেক চ্যালেঞ্জ, অনেক ঝুঁকি রয়েছে। তার মাঝ দিয়েও তারা কাজ করে যাচ্ছেন।”
হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্ভিস, সরঞ্জাম, টিকা ও ওষুধের পর্যাপ্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, রোগীদের কাছ থেকেও এসব বিষয়ে তিনি শুনেছেন। তার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতায় প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম, ওষুধ ও মাস্ক পর্যাপ্ত নয় বলে মনে হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- এই রোগের যেটুকু আমি বুঝি, এখানে আমাদের প্রিভেনশনটা একটু ইম্পর্ট্যান্ট। সরকার প্রিভেনশন নিয়েও কাজ করছে। আমাদের যে ভূমিকা ও পলিসি রয়েছে, সেটাকে আরো এক্সেলারেট করতে হবে। আরো স্ট্রেন্দেন করে আমাদের এগোতে হবে।”
এম এ সালাম বলেন, “হামে আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। প্রতিটি শিশু যাতে টিকা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ” প্রতিটি গ্রাম, অঞ্চল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সিলেটে হামের প্রকোপ অন্য জেলার তুলনায় বেশি এবং তা দিন দিন বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকায় ফিরে এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলব।”
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সিলেটের কৃতী সন্তান ডা. জুবাইদা রহমানকেও বিষয়টি অবহিত করার চেষ্টা করবেন বলে জানান।
এম এ সালাম বলেন, রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকেও এ পরিস্থিতিতে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ঢাকায় ফিরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের মাধ্যমে হামের প্রকোপ মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্টদের আরো কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।