চবি প্রতিনিধি || চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে সম্প্রতি বরাদ্দের পরও খালি থাকা আসনগুলো মেধার ভিত্তিতে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে হল সংসদ। একইসঙ্গে, হলে নতুন করে দ্বৈত-সিট বা ‘ডাবলিং’ না দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে হলের প্রভোস্টের কার্যালয়ে এ দাবি জানান হল সংসদের প্রতিনিধিরা। এ সময় হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত ছিলেন।
হল সূত্রে জানা গেছে, স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশের পর বর্তমানে হলে ৭৬টি আসন খালি হওয়ার কথা। তবে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় আসন বরাদ্দ কমিটি হলটিতে ৫৬ জন শিক্ষার্থীকে আসন বরাদ্দ দিয়েছে।
বাকি ২২টি আসনের বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিটেক ও ইয়ার ড্রপের কারণে অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করায় তাদের আসন বহাল রাখা হয়েছে। তবে, হল সংসদের দাবি, এসব কারণে এতগুলো আসন বহাল থাকার কথা নয়। এর মধ্যে কিছু আসন খালি থাকলেও সেগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, “হলে ৭৬টি আসন শূন্য দেখানোর পর মাত্র ৫৪টি সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রিটেক ও ইয়ার ড্রপের হিসাব বাদ দিলেও আরও অন্তত ১২-১৪টি আসন ফাঁকা থাকার কথা। এই অতিরিক্ত শূন্য আসনগুলোর সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করে মেধাক্রম অনুযায়ী ওয়েটিং লিস্ট থেকে আইসিটি সেলের মাধ্যমে বরাদ্দ দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা ঊর্ধ্বতনের চাপ থাকলে তা হল সংসদ ও শিক্ষার্থীদের কাছে খোলাসা করতে হবে—ক্ষমতার চাপে কোনো দলকে সুবিধা দিতে একটা সিটও ব্যবহার করা যাবে না।”
তিনি আরো বলেন, “হলে ‘ডাবলিং’ এর নাম করে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সিটে উঠে পরবর্তীতে সেটিকে অধিকার করে নেওয়ার মাধ্যমে অনাবাসিক মেধাবীদের সাথে প্রতারণা হচ্ছে। এভাবে আসন খালিই হবে না, অপেক্ষায় থাকা ভালো রেজাল্টধারীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া, হলের ডাইনিং, লাইব্রেরি, ওয়াশরুমসহ সবকিছুর ক্যাপাসিটি সিংগেল সিটের অনুপাতে। ডাবলিংয়ের কারণে সকল ছাত্র সমস্যায় পড়ছে, এই হলের কেউ এই ডাবলিং নামের প্রহসন চায় না। হলে সকল প্রকার ডাবলিং সিট বরাদ্দ বন্ধ করতে হবে।”
শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপ এইচএস ফারুক আলম বলেন, “ফাঁকা আসনে নতুনভাবে বরাদ্দকৃত ছাত্রদের ভাইভা নেওয়া হচ্ছে, দ্রুতই তাদের বরাদ্দ সম্পন্ন হবে। পরবর্তীতে শূন্য আসনগুলো মেধার ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ দিবে। রাজনৈতিক চাপে কাউকে সিট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডাবলিং তো আগে থেকেই হয়ে আসছে, তবে এখন এ নিয়ে হলের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানাচ্ছে।”