বগুড়া প্রতিনিধি || বগুড়ায় মুদি দোকানি রাকিবুল হাসান হৃদয় হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন ও রাব্বি মিয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আশিকুল ইসলাম, শাকিল ইসলাম ও মতিন মিয়া। রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় হৃদয়ের মালিকানাধীন হৃদয় ভ্যারাইটি স্টোরে আসামিরা এসে ঈদ উপলক্ষে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে রাকিবুল হাসান হৃদয় ও তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদকে (৫৮) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় হৃদয়ের মা মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার পর নিহত হৃদয়ের মা ও মামলার বাদী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘‘আমার একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিল। ঈদের আগের দিন ওরা আমার ছেলেকে খুন করে। ঈদের পরের দিন আমার ছেলের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই শিশু কোনো দিন তার বাবাকে দেখতে পারেনি।’’ তিনি এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন বলেন, আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।