খেলাধুলা ডেস্ক || একসময় বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাব্বির রহমান ছিলেন পরিচিত এক নাম। ব্যাট হাতে আগ্রাসন, দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য আর বড় শট খেলার দক্ষতায় ৩ সংস্করণেই জায়গা করে নিয়েছিলেন জাতীয় দলে। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ফর্ম কথা বলেনি সাব্বিরের পক্ষে। জাতীয় দলের দরজা ধীরে-ধীরে বন্ধ হয়েছে, হারিয়েছেন নিয়মিত জায়গা।
তবু থামেননি সাব্বির। ৩৪ বছর বয়সে এসে সদ্য সমাপ্ত অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে আবারও নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন। বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের হয়ে সাত ম্যাচে ১৮৪ রান করেছেন তিনি। দুটি ফিফটির সঙ্গে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১২৪.৩২। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে অন্যতম সফলদের একজন ছিলেন সাব্বির।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অবশ্য নিজের লক্ষ্যটা পরিষ্কার করেছিলেন সাব্বির, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এটা আমার জন্য নতুন একটা সুযোগ। আমি এটাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছি এবং এটা আমার কামব্যাকের সুযোগ হতে পারে।’
ডারউইনে সেই চেষ্টার ছাপও দেখা গেছে। কখনো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, কখনো পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেছেন সাব্বির। অভিজ্ঞতার সঙ্গে আগের সেই আক্রমণসুলভ শটের ঝলকও দেখা গেছে তার ব্যাটে।
তবে এই প্রত্যাবর্তনের গল্পে সাব্বির একা নন। তার নিজের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় ভালো করার পেছনে বড় অবদান রয়েছে জাতীয় দলের সাবেক দুই ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েসের। রিয়াদ এই সফরে ছিলেন পরামর্শকের ভূমিকায়। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগেও সাব্বিরকে নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। আর অস্ট্রেলিয়ায় থিতু হয়ে যাওয়া ইমরুল কায়েসও দল সেখানে যাওয়ার পর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাব্বির তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাই ও ইমরুল ভাই! আপনারা আমার কাছে শুধু কলিগ নন, আপনারা আমার গার্ডিয়ান, কোচ, মেন্টর এবং পথপ্রদর্শকও। আপনাদের থেকে ছোটবেলা থেকেই শিখেছি, এখন বড় হয়েও শিখছি। আসলে শেখার কোনো শেষ নেই। আশা করি, সামনেও আপনাদের কাছ থেকে আরও অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাব।’
কঠিন সময়ে দুই অগ্রজের সমর্থন যে তাকে মানসিকভাবে শক্তি দিয়েছে, সেটিও জানিয়েছেন সাব্বির, ‘এই সময়ে এসে আপনারা যেভাবে আমাকে ব্যাক করেছেন, সাপোর্ট করেছেন এবং বিশ্বাস রেখেছেন, সেটা আমার জন্য সত্যিই অনেক মূল্যবান। আপনাদের দেওয়া প্রতিটি পরামর্শ ও গাইডলাইন মেনে চলার চেষ্টা করেছি এবং এখনও করে যাচ্ছি।’
২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর সাব্বির বাংলাদেশের হয়ে ১১টি টেস্ট, ৬৬টি ওয়ানডে ও ৪৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তিন সংস্করণেই খেললেও ২০১৯ সালের পর জাতীয় দলে তার উপস্থিতি আর নিয়মিত ছিল না। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে তার সর্বশেষ ম্যাচ ২০২২ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
সাব্বিরের ডারউইনের পারফরম্যান্সটা আলাদা করে নজর কাড়ছে। কারণ এবার শুধু রান নয়, তার সামনে ছিল আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। সেই সুযোগে ১৮৪ রান করে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি।
নিজের এই ভালো সময়ের কৃতিত্বও তাই শুধু নিজের ওপর রাখছেন না সাব্বির, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে ভালো খেলতে পারছি এবং সামনে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি। আমার এই ভালো করার পেছনে আপনাদের দুজনের অবদান অনেক বেশি। আপনাদের সাপোর্ট, গাইডলাইন ও বিশ্বাস আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’
শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের। কিন্তু দরজায় কড়া নাড়ার কাজটা নিজের ব্যাট দিয়েই করেছেন সাব্বির।