1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
জীবিত থাকতেই ৫ হাজার মানুষকে ‘চল্লিশা’ খাওয়ালেন দম্পতি - দৈনিক প্রথম ডাক
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

জীবিত থাকতেই ৫ হাজার মানুষকে ‘চল্লিশা’ খাওয়ালেন দম্পতি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে
চল্লিশা ভোজের রান্না করছেন বাবুর্চিরা। ইনসার্ট: আয়োজক মো. রফিকুল ইসলাম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি || সন্তানরা বাকপ্রতিবন্ধী। ফলে মৃত্যুর পর তারা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের দাওয়াত করে ঠিক মতো ‘চল্লিশা’ আয়োজন করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের এক দম্পতি। এই ভাবনা থেকেই জীবিত থাকতেই রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫) নিজেদের চল্লিশার আয়োজন করেন। এই ভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নেন অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে এ ‘চল্লিশা’ ভোজের আয়োজন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রায় ৫ হাজার মানুষ এ ভোজে অংশ নেয়। আগত অতিথিদের বসে খাওয়ার জন্য মাঠজুড়ে সামিয়ানা টানানোর পাশাপাশি চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়। একসঙ্গে প্রতিবার প্রায় ৪০০ মানুষের খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা ছিল।

ভোজের মেন্যুতে ছিল গরু ও খাসির মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েস। এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে এ ভোজে অংশ নেয়।

আয়োজক মো. রফিকুল ইসলাম বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। এমন ব্যাতিক্রমী আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তার দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। ভবিষ্যতে তার এবং স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তানরা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। এ কারণে জীবিত থাকতেই নিজের হাতে আয়োজনটি করার সিদ্ধান্ত নেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই তিনি এ আয়োজন করেছেন। বেঁচে থাকতেই সবার মুখে ‘চল্লিশার’ খাবার তুলে দেওয়াই ছিল ইচ্ছে।

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন বলেন, “এ ধরনের আয়োজন আগে এ এলাকায় দেখা যায়নি। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে খাবারে অংশ নিয়েছেন।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে মৃত্যুর পর চল্লিশার পরিবর্তে জীবিত অবস্থায় এ ভোজ আয়োজনের বিষয়টি রফিকুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমি অধিগ্রহণের পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে এ আয়োজনের অর্থ ব্যয় করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজন করতে প্রায় ৯ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।

রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান মাসুদ মিয়া (৩০) ও রায়হান মিয়া (১৪) বাকপ্রতিবন্ধী। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মেয়ে-জামাই বাবলু মিয়া, শান্তা আক্তার (২৫) ও রানা মিয়া (১৭)।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT