নিজস্ব প্রতিবেদক || চলতি করবর্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য কর প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সে অনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যাবে।
আজ রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন শেখ জানান, আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার শ্রেণির করদাতারা এই সুবিধা পাবেন। তবে কর ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।
এনবিআর জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো কর প্রণোদনা মিলবে না। এরপর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি, অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
আর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত করের হার আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি, অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।
সংস্থাটি মনে করছে, এ উদ্যোগের ফলে করদাতারা নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত হবেন। এতে স্বেচ্ছায় কর পরিশোধের সংস্কৃতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কর প্রশাসনের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে।
এদিকে ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য গত ২২ জুলাই থেকে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ই-রিটার্ন সেবা চালু হয়েছে। এনবিআরের ই-ট্যাক্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ঘরে বসেই রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে। একইসঙ্গে ব্যাংক স্থানান্তর, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ এবং রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, অনলাইনে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করদাতারা প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অফিস চলাকালে এনবিআরের কল সেন্টার ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।
একইসঙ্গে করদাতাদের ৩০ সেপ্টেম্বরের আগেই রিটার্ন দাখিল করে কর প্রণোদনার সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।