নিজস্ব প্রতিবেদক || বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট (পিক ডিসি) ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোল্টাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদনের সুপারিশ করেছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। সুপারিশের ভিত্তিতে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রস্তাবিত “Construction of 442 MW Peak (DC) Solar Photovoltaic Grid-Connected Power Plant at Block-B, Rampal” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৭৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৭ কোটি ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বিপিডিবির অধিগ্রহণ করা প্রায় ১ হাজার ৮০৪ একর জমির ব্লক-এ ও ব্লক-বি অংশের মধ্যে ব্লক-বি এলাকায় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। ব্লক-এ অংশে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য ব্লক-বি এলাকার জমি উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী, ব্যবহারযোগ্য প্রায় ৬৮৫ একর জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ডিসি ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সৌর প্যানেল স্থাপন, ইনভার্টার স্টেশন, পুলিং সাব-স্টেশন, পাওয়ার ইভাকুয়েশন সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৩৩/২৩০ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য, সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (IEPMP)-২০২৩ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের সরকারি লক্ষ্য বিবেচনায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি গ্যাস, তেল ও কয়লার বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।
পিইসি সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সভায় পরিকল্পনা কমিশন, বিদ্যুৎ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), বিপিডিবিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রকল্পটি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) নূর আহমেদ বলেন, “প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে আড়াই বছরের মতো সময় লাগবে।”
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, “এই প্রকল্প সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আমদানি নির্ভরতা কমাতে না পারলে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাত ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়তে পারে। ফলে এই ধরনের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতি সরকারের মনোযোগী হওয়া জরুরি।”