খেলাধুলা ডেস্ক || ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির ব্যর্থ পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়ছে। তবে সবকিছুর পরও এই সুইস ফুটবল সংগঠককে ফিফা থেকে সরানোর করাটাকে ‘ভয়াবহ ভুল’ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যে কোনো কারণেই হোক, ফিফা যদি সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা চিন্তাও করে, তাহলে তারা ভয়াবহ ভুল করবে।’
ইনফান্তিনোর প্রশংসা করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি অসাধারণ। তাঁর নেতৃত্বে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ হয়েছে, অন্য যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় চার গুণ সফল। তিনি চলে গেলে বিশ্বকাপ আর কখনো এতটা সফল বা লাভজনক হবে না।’
তবে ট্রাম্পের এই সমর্থনের দিনেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার ফুটবল কর্তৃপক্ষ। উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি যৌথ বিবৃতিতে ফিফার বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনাকে ‘আস্থার মৌলিক লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা প্রস্তাবটির স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে।
বিতর্কিত ওই পরিকল্পনার আওতায় ফিফার টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক ও পরিচালন কাঠামো দেখভালের জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব ছিল। এর প্রায় ২০ শতাংশ অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করে।
ইনফান্তিনো পরে এই পরিকল্পনা নিয়ে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও বিরোধিতা থামেনি। উয়েফা এরই মধ্যে জানিয়েছে, শর্ত পূরণ না হলে তাদের সদস্য দেশগুলো ফিফার প্রতিযোগিতা, এমনকি বিশ্বকাপও বয়কট করতে পারে।
২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়া ইনফান্তিনোর বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে। চতুর্থ মেয়াদে ২০৩১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার জন্য নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এখন তাঁর বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নতুন মাত্রা যোগ করল ফিফার নেতৃত্বের সংকটে।