রংপুর প্রতিনিধি || রংপুরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। সংরক্ষণ ভাড়া কমানো না হলে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর লালবাগে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ঘেরাও করে প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। পরে সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর দাবিতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, চলতি মৌসুমে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এমনিতেই লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে হিমাগার মালিকরা সিন্ডিকেট করে সংরক্ষণ ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য অঞ্চল এবং উত্তরের বেশিরভাগ জেলার তুলনায় রংপুরে বস্তাপ্রতি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রংপুরেও আলু সংরক্ষণের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান। আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
রংপুর জেলা আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈবুর রহমান বলেন, আলু উৎপাদনের শীর্ষ জেলা রংপুর। অথচ এই জেলায় হিমাগার মালিকরা সিন্ডিকেট করে সংরক্ষণ ভাড়া অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক বৃদ্ধি করেছে। বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় আন্দোলন করলেও সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের দায়সারা আশ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তাই অবিলম্বে আলু সংরক্ষণ ভাড়া বর্তমানে কেজি প্রতি ৭ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা করার দাবি জানান তিনি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক বলেন, রংপুরে হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন হিমাগার মালিক সিন্ডিকেট করে চাষী ও ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে অতিরিক্ত মূল্য চাপিয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে আর কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তবে ১৬ তারিখের পর কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর পথ থাকবে না।
এদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এন এম আলমগীর বাদশা জানান, আলু চাষিদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর বিষয়ে হিমাগার মালিকদের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।