আন্তর্জাতিক ডেস্ক || প্রতিকূল পরিস্থিতি ও মানসিক চাপ চরমে পৌঁছানোর কারণে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন নাবিকরা একাধিকবার সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। নাবিকদলটি সমুদ্রে তাদের নবম মাস পার করছে এবং একটানা ২৫০ দিন কোনো স্থলভাগে না নেমে কাটিয়েছে – যা আধুনিক যুগে একটি বিমানবাহী রণতরীর জন্য একটি রেকর্ড।
দুটি শীর্ষস্থানীয় বিশেষায়িত সামরিক পত্রিকা- নেভি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে রণতরীটির পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য সমুদ্রে এই রেকর্ড-ভাঙা মোতায়েনের মধ্যে রয়েছেন।
স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর নেতাদের সঙ্গে এক আবেগঘন টাউন হল সভায় উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো লিঙ্কন জাহাজে থাকা প্রিয়জনদের নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রায় ২০০ জন পরিবারের সদস্যের মধ্যে একজন স্ত্রী জানিয়েছেন, তার স্বামী সেদিন তাকে পাঠানো এক ক্ষুদেবার্তায় বলেছিলেন, “তিনি আশা করেন যেন আগামীকাল আর ঘুম থেকে না ওঠেন।”
পরিবারগুলোর উদ্বেগ সরাসরি নৌবাহিনীর নেতৃত্বের কাছে জানানো হয়েছিল, যাদের প্রতিনিধিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী হং কাও এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত এক নারী কাওকে বলেন, নৌবাহিনী ‘আমাদের এবং নেতৃত্বের মধ্যেকার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।’
‘দ্য নেভি টাইমস’ বর্তমান মোতায়েনের সময় বিমানবাহী রণতরীতে বেশ কয়েকটি ব্যর্থ আত্মহত্যার চেষ্টার বিবরণ দিয়েছে।
পত্রিকাটি আরেকজন নাবিকের স্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়েছে। ওই নারীর স্বামী লিঙ্কন জাহাজে একটি পৃথক ঘটনায় জড়িত ছিলেন। সেই ঘটনায় তিনি একজন সহকর্মীকে লাফ দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিলেন, তাকে ধরে ডেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন যুদ্ধজাহাজটির ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জাহাজের নাবিকদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেছেন, “ছত্রাকযুক্ত শাওয়ার, ভাঙা টয়লেট, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে কাপড় কাচা বন্ধ, দীর্ঘ সময় ধরে গরম জল না থাকা, খাবার বলতে আধ কাপ ভাত আর দুটো টরটিয়া। কোনো সাবান, ডিওডোরেন্ট বা টুথপেস্ট নেই।”
আফগানিস্তান ও ইরাকে কর্মরত একজন প্রাক্তন আর্মি রেঞ্জার এবং কলোরাডো থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো বলেছেন, লিঙ্কন জাহাজে কর্মরত সেনা সদস্য এবং তাদের পরিবারের উপর চাপ ‘সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়ছে।’