বিনোদন ডেস্ক || বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান অভিনীত-প্রযোজিত আলোচিত সিনেমা ‘লগান’। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকা তৈরি করা হলে ‘লগান’ ব্যতীত তা অস্পূর্ণ থেকে যাবে! সিনেমাটির প্রতিটি চরিত্র দর্শকদের হৃদয়ে আজও গেঁথে আছে।
বিশেষ করে ‘লগান’ সিনেমায় ব্রিটিশ এলিজাবেথ রাসেলের চরিত্রটি আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। ‘এলিজাবেথ রাসেল’ চরিত্র রূপায়ন করেন ইংলিশ অভিনেত্রী র্যাচেল শেলি। সিনেমার গল্পে ‘ভুবন’ চরিত্র রূপায়নকারী আমির খানকে গোপনে ক্রিকেট দল গঠনে সাহায্য করেন র্যাচেল শেলি। আর তাকে সাহায্য করতে গিয়ে ভুবনের প্রেমে পড়েন। মাথায় হ্যাট আর সাদা গাউন পরিহিত র্যাচেলের লুক এখনো সিনেমাপ্রেমীদের কল্পনায় ভেসে ওঠে। ২০০১ সালে মুক্তি পায় ‘লগান’ সিনেমা। এরপর আর কোনো হিন্দি সিনেমায় দেখা যায়নি র্যাচেলকে। তবে কী অভিনয় দুনিয়া থেকে হারিয়ে গেলেন এই অভিনেত্রী?

ইন্ডিয়া টিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, র্যাচেল শেলি তার অভিনয়জীবনে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা ও টিভি শো উপহার দিয়েছেন। ওয়েব সিরিজেও পা রেখেছেন। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি ভাষার ওয়েব সিরিজ ‘কোহরা’। সুদীপ শর্মা নির্মিত এই ক্রাইম থ্রিলার সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরুণ সোবতি, বরুণ বাডোলা, হারলিন শেঠি, সুবিন্দর ভিকি, মনীশ চৌধুরী। ‘ক্লারা মারফি’ চরিত্রে অভিনয় করেন র্যাচেল শেলি। ক্লারা ছিলেন লিয়ামের মা এবং যুক্তরাজ্য থেকে আসা স্টিভ ধিলনের পারিবারিক বন্ধু।
ম্যাথিউ পার্কহিল নির্মিত ‘ইয়াং শার্লক’-এ অভিনয় করেছেন র্যাচেল শেলি। রহস্য ও থ্রিলার ঘরানার এ সিরিজে পার্শ্ব চরিত্র ‘আনা টিলকফ’ রূপে দেখা যায় তাকে। সিরিজটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন—হিরো ফিয়ান্স টিফিন, ডোনাল ফিন, জিন সেং, জোসেফ ফিয়ান্স, নাতাশা ম্যাকএলহোন, ম্যাক্স আয়রনস, কলিন ফার্থ প্রমুখ। চলতি বছরের ৪ মার্চ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পেয়েছে ৮ পর্বের এই ইংলিশ সিরিজ।

কয়েক মাস আগে ‘লগান’ সিনেমা মুক্তির ২৫ বছর পূর্ণ করেছে। এ উপলক্ষে র্যাচেল শেলি বলেন, “সত্যিই এটি আনন্দের একটি মাইলফলক। কখনো কখনো মনে হয়—এটি যেন গতকালের ঘটনা। আবার কখনো মনে হয়, এটা যেন অন্য কোনো জীবনের কথা বলছি। তাই যারা বছরের পর বছর ধরে সিনেমাটি এত প্রাণবন্ত রেখেছেন, এত ভালোবাসা দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”
‘লগান’ সিনেমার প্রভাব র্যাচেল শেলির ক্যারিয়ারে রয়েছে। তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী হিসেবে বলছি, আমরা সিনেমা তৈরি করি। কিন্তু দর্শকরা এটিকে পূর্ণতা দেন। তারা সিনেমাটি দেখেন, বছরের পর বছর ভালোবাসা ও সমর্থন দেন। এই উপহার দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। ‘লগান’-এর পর যে কাজই করেছি, তার প্রতিটিতেই কোনো না কোনোভাবে এর প্রভাব রয়েছে।

আশুতোষ গোয়াড়িকর নির্মিত ‘লগান’ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। ক্রিকেট, দেশপ্রেম, প্রেম আর সংগ্রামের অনন্য মিশেলে স্মরণীয় হয়ে উঠে সিনেমাটির গল্প। ক্লাইম্যাক্সে চম্পানের দরিদ্র কৃষকেরা ক্রিকেট ম্যাচে ব্রিটিশদের হারিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে। আর সেই দৃশ্য দেখে দর্শকদের হাততালি, শিস আর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস চিরস্মরণীয়। সেই সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিন্দি সিনেমাগুলোর একটি ‘লগান’। প্রায় ২৫ কোটি রুপির বাজেটে নির্মিত হয় সিনেমাটি।
১৯৬৯ সালের ২৫ আগস্ট যুক্তরাজ্যের উইল্টশার সুইনডনে জন্মগ্রহণ করেন র্যাচেল শেলি। দেশটির শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ও ড্রামা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন। পরে এডিনবার্গ নামে একটি স্থানীয় থিয়েটারে যোগ দেন। পরবর্তীতে শেফিল্ডে একটি কমিউনিটি থিয়েটার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর অভিনয়জীবনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান।

১৯৯৪ সালে ‘ব্রোকেন হার্ট’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন র্যাচেল শেলি। একই বছর ‘রয়েস’ নামে একটি টিভি সিরিজে অভিনয় করেন। এরপর বেশকিছু টিভি সিরিজে পারফর্ম করেন। ২০০৫ ‘দ্য এল লর্ড’ সিরিজে অভিনয় করে খ্যাতি কুড়ান। তার আগে ‘লগান’ সিনেমায় অভিনয় করে ভারতীয় উপমহাদেশে নজর কাড়েন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে পরিচালক-প্রযোজক, লেখক ম্যাথিউ পার্কহিলের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন র্যাচেল শেলি। ১৯৯৫ সাল থেকে একসঙ্গে রয়েছেন তারা। এ যুগলের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবার নিয়ে এখন লন্ডনের নটিং হিলে বসবাস করছেন র্যাচেল।
*ইন্ডিয়া টিভি অবলম্বনে