খেলাধুলা ডেস্ক || কোচ জাভি আলোনসোর অধীনে চেলসির শুরুটা হলো জয় দিয়ে। তবে এরপরও ভরসা পাচ্ছে না ব্লুজ সমর্থকরা। কারণ মৌসুমের শুরুতে চেলসি এর আগেও অনেকবার মিথ্যে আশা দেখিয়ে পরে ব্যররথ হয়েছে। নতুন স্প্যানিশ কোচের অধীনেও যে তেমন কিছু হবে না, সেই নিশ্চয়তা কে দিবে? আলোনসোর চেলসির ভবিষ্যত কি হবে সেই উত্তর সময়ের হাতে তোলা থাক। তবে, প্রথম ম্যাচে ফুলহ্যামের বিপক্ষে চেলসি তাদের সমর্থকদের রোলার-কোস্টারের চড়ার আনন্দ দিয়ে ফেলেছে। তাতেই অনুমান করা যাচ্ছে যে, মৌসুমটা হতে যাচ্ছে উত্তেজনায় ভরপুর।
পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফুলহামকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে চেলসি। ফুহামের ক্রেভেন কটেজে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে চেলসি। ম্যাচ শুরুর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জোয়াও পেদ্রো। এরপর আক্রমণভাগে একে একে নিজেদের ছাপ রাখেন কোল পালমার ও মরগান রজার্সও। তবে চেলসির আক্রমণ যতটা ধারালো ছিল, রক্ষণ ততটাই নড়বড়ে। ফুলহামও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফিরেছে দুইবার।
প্রথমার্ধে জশ কিংয়ের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। তবে বিরতির আগেই আবার চেলসিকে এগিয়ে দেন রজার্স। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পালমারের গোলে ব্যবধান ৩-১ করে আলোনসোর দল। এরপর আবারও চেলসির রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান কমায় ফুলহাম। গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের ভুলের সুযোগে রিবাউন্ড থেকে গোল করেন গনসালো গার্সিয়া। শেষ দিকে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগও পেয়েছিল ফুলহাম। অ্যান্টোনি রবিনসনের লব অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম হতে পারত।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে চেলসি। আলোনসোর ৩-৪-২-১ ছকে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সামনের তিনজন, জোয়াও পেদ্রো, কোল পালমার ও মরগান রজার্স। তিনজনই গোল করেছেন, আর ম্যাচের শুরু থেকেই তাদের বোঝাপড়া ফুলহামকে চাপে রেখেছে।
বিশেষ করে পালমারকে দেখা গেছে অনেক বেশি স্বাধীন ভূমিকায়। গত মৌসুমের কঠিন সময়ের পর নতুন কোচের অধীনে যেন আবারও নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে আলোনসোর জন্য সতর্কবার্তাও পরিষ্কার, আক্রমণ ম্যাচ জেতাতে পারে, কিন্তু রক্ষণ শিরোপা জেতায়। প্রথম ম্যাচেই চেলসির রক্ষণ ও গোলকিপিংয়ের দুর্বলতা যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে, মৌসুমের বাকি সময়ে সেটিই হতে পারে আলোনসোর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।