আন্তর্জাতিক ডেস্ক || ইরানের অর্থপ্রবাহ বন্ধ করতে ওয়াশিংটন ঘোষিত নতুন উদ্যোগ ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’- এর আওতায় ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠান ও তিনজন নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ক্রয়, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে জড়িত থাকার অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্র ও অর্থ দপ্তর যৌথভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ বিশ্বজুড়ে নতুন করে যে ৬০টি সংস্থা, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, ভারতের এই প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা তারই অংশ।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গ
* পোর্টেজ পার্টনার্স এলএলপি: কাস্টমস ব্রোকার হিসেবে কাজ করা এই সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ভারতে আমদানিতে সরাসরি সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে এর দুই পার্টনার হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি ও ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
* সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড: বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ (৬৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
* পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড: প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ইরানি তেল আমদানির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি এবং এর সঙ্গে যুক্ত প্রশান্ত গর্গ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়েছেন।
* প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড: এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সমপরিমাণ অর্থাৎ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
ইরানের অর্থনীতিকে কোণঠাসা করতে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দিলেও, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে ঢালাওভাবে প্রয়োগ করা হবে না।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার সংকেত পেয়ে সম্প্রতি খালি করা দূতাবাসগুলোতে পুনরায় কর্মী ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন আপাতত বড় সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কম দেখলেও দূতাবাসগুলো আপাতত সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে।