প্রথম ডাক ডেস্ক || বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে দ্রুত দুঃখ প্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠান করতে পারবেন না হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই আলটিমেটাম দেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘বি-বাড়িয়ার মানুষ যেমন জামিয়া ইউনুসিয়ার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে কঠোর প্রতিবাদ জানাতে জানে, তেমনি ভুল স্বীকার করলে ক্ষমা করে বুকে টেনে নিতেও পিছপা হয় না।’’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি কালচারাল জেলা, সেখানে গান-বাজনা, সিনেমা বন্ধের মতো…।’’
এই বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। এতে ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।
সমাবেশে বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। বক্তারা বলেন, ‘‘হাসনাত আবদুল্লাহকে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’’ একই সঙ্গে তারা আজ শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হওয়ার কথা রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম মাদানী ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘‘বি-বাড়িয়ায় যদি কোনোভাবে খবর প্রচার হয়— জামিয়ায় কোনো ঝামেলা হয়েছে, জামিয়ার বিরুদ্ধে কিছু ঘটছে—সাথে সাথে দোকানদার থেকে নিয়ে কর্মচারী, কৃষক, শ্রমিক, এমনকি মহিলারা পর্যন্ত জামিয়াকে রক্ষায় যার ঘরে যা আছে তা নিয়ে ছুটে আসে হ্যাঁ, এটা তাদের প্রাণের জামিয়া!’’
তিনি লেখেন, ‘জামিয়া নিয়ে তাদের আবেগটা ভিন্ন। এখানে যদি হাত দেওয়া হয়, তারা কোনোভাবেই সহ্য করে না!’’
হাসনাত আব্দুল্লাহকে উদ্দেশ করে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে বলেন, ‘‘ভাই, বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখপ্রকাশ না করলে বি-বাড়িয়ায় কোনো প্রোগ্রাম করতে পারবে না— এটা পারবে না লিখে রাখেন, ফাইনাল!’’
আরও পড়ুন: কর্মসূচি পালনে অনড় এনসিপি, একই স্থানে কওমী ছাত্রদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘আর যদি কেউ হাসিনা স্টাইলে বি-বাড়িয়ায় কিছু করতে চায়, উপায় থাকবে না। তখন শুধু বি-বাড়িয়া না, সারাদেশ উত্তাল হবে!’’
পোস্টের শেষে তিনি আরও লেখেন, ‘‘সর্বশেষ হাসানাত ভাইয়ের প্রতি আহ্বান থাকবে— আপনি দ্রুত সময়ের মধ্যে দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টা শেষ করে দিন। এই মানুষগুলো আপনাকে ছোট করে কিছু পেতে চায় না। এরা আপনাকে মোহাব্বত করত। আপনি ভুল বুঝতে পারলে, শুদরে গেলে, এখনও করবে!’’