1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
ক্ষেতেই সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে আলু - দৈনিক প্রথম ডাক
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

ক্ষেতেই সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে আলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে ৮০ মাইল উত্তর-পূর্বে ইয়াংগু কাউন্টির একটি আলুর ক্ষেতে লি সাং-হিউক মাটি খুঁড়েও বাঁচানোর মতো কিছুই খুঁজে পাননি। এক সপ্তাহ আগেও গ্যাংওন প্রদেশে অবস্থিত এই ফসল ক্ষেতটি দেখতে ভালোই ছিল। এখন আলুগুলো নরম হয়ে ভেঙে পড়ছে, ‘যেন সেদ্ধ আলু’। তীব্র তাপে আলুগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তাপ মাটিকে চুলার কাছাকাছি কিছুতে পরিণত করেছে।

লি সাং বলেন, “এরকম শুধু এক বা দুটি ক্ষেত নয়। আমি এটা ভাষায় প্রকাশ করব কী করে? এটা খুবই হতাশাজনক।”

পূর্ব এশিয়াজুড়ে চলা এই অসহনীয় গ্রীষ্মের একটি অংশ হলো ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়া। কারণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকংয়ে রেকর্ড পরিমাণ তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।

২ আগস্ট, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নথিভুক্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

দেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মতে, এই তাপপ্রবাহের কারণে দেশব্যাপী অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৯ লাখেরও বেশি গবাদি পশু ও ১৪ লাখ চাষ করা মাছ মারা গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং তার মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, এই চরম আবহাওয়া “আমরা আগে যা দেখেছি তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আমাদের জাতীয় সংকট ব্যবস্থার একটি মৌলিক সংস্কারের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে, কারণ এই চরম আবহাওয়াই নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে।”

প্রতিবেশী দেশ জাপানে একাধিক স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি পৌঁছেছিল এবং দেশটি তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘কোকুশোবি’ বা ‘ভয়াবহ গরমের দিন’ রেকর্ড করেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার জন্য এ বছর দেশটির আবহাওয়া সংস্থা এই নতুন বিভাগটি চালু করেছে। টোকিওর একটি চিড়িয়াখানায় তিনটি সিংহ সম্ভবত হিটস্ট্রোকে মারা গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই চরম পরিস্থিতি একটি বৃহত্তর ধারার অংশ। জাপানের ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন সেন্টারের গবেষকরা দেখেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ছাড়া দেশটির জুলাই মাসের এই তীব্র গরম ‘কার্যত অসম্ভব’ হতো।

তারা হিসাব করে দেখেছেন, মানুষের কার্যকলাপের কারণে সৃষ্ট এই উষ্ণায়ন না থাকলে, এই মাত্রার একটি তাপপ্রবাহ গড়ে প্রতি ১০ হাজার বছরে একবার ঘটত।

এই তাপপ্রবাহ এমন সময়ে আঘাত হানে যখন এল নিনো চলছিল। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ধারা, যা অতীতে জাপানে গ্রীষ্মের চরম গরমের সম্ভাবনা কম থাকার সাথে সম্পর্কিত ছিল।

টাইফুন ডলফিনের বাইরের বলয় শহরটির ওপর দিয়ে উষ্ণ বাতাস বয়ে নিয়ে যাওয়ায় হংকংয়ের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সরকারিভাবে ৩৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ১৮৮৪ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে সর্বোচ্চ।

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং-এর একটি আবহাওয়া কেন্দ্র জুলাই মাসে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে এবং দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে টানা কয়েকটি ক্রান্তীয় রাতের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি।

পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানী এবং জাতিসংঘের সাম্প্রতিকতম জলবায়ু মূল্যায়নের সমন্বয়কারী প্রধান লেখক জুন-ই লি বলেছেন, এই আঞ্চলিক তাপপ্রবাহটি বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন বিন্যাস এবং উষ্ণ জলবায়ুর মিশ্রণের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। চলতি বছরের এল নিনোর প্রভাবে তিব্বত মালভূমি এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উপর একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় এই তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরিতে সাহায্য করে থাকতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা তাদের সর্বশেষ ‘এশিয়ার জলবায়ুর অবস্থা’ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৯৯১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়ার উষ্ণায়নের গতি তার আগের তিন দশকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

সিউল থেকে প্রায় ১৬০ মাইল দক্ষিণে গোয়াংজুতে, তরমুজ চাষী হং কিয়ং-হি দেখেছেন, তার চাষ করা ফলগুলো ক্ষেতেই নরম হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “ভেতরটা ভালো ছিল, মিষ্টিটাও ভালো ছিল, সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু তিন দিন পর রাতারাতি এটা এভাবে বদলে গেল। আমার ৫০ বছরের চাষাবাদে এই প্রথমবার এমন হলো।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT