বিনোদন প্রতিবেদক || ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা অমিত হাসান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনো নায়ক, কখনো খলনায়ক—দুই চরিত্রেই দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। একসময় চলচ্চিত্রে নিয়মিত দেখা গেলেও বর্তমানে অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত।
এরই মধ্যে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) দেখা মিলল অমিত হাসানের। এফডিসিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যক্তি জীবন, ধর্মচর্চা ও অভিনয়জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
অমিত হাসানের কাছে ধর্ম ও পেশা—দুটিই আলাদা বিষয়। ধর্ম পালন করতে গিয়ে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ দেখেন না তিনি। বরং নিজের পেশার পাশাপাশি ধর্মীয় দায়িত্বও যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করে যেতে চান এই অভিনেতা।
ধর্ম ও অভিনয় প্রসঙ্গে অমিত হাসান বলেন, “ধর্মটা নিজের কাছে। আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি দেখে ধর্ম করব না, আবার ধর্ম করব দেখে চলচ্চিত্রও ছেড়ে দেব—বিষয়টা এমন নয়। হয়তো ম্যান টু ম্যান ভ্যারি করে ব্যাপারটা। যার যার ব্যক্তিগত চিন্তা থাকতে পারে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, আমার ধর্ম-কর্ম আমার কাছে।”
অভিনয়কে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে অমিত হাসান বলেন, “এফডিসি বা অভিনয় হচ্ছে আমার কর্ম। আজকে মানুষ আমাকে অমিত হাসান হিসেবে চেনে আমার কাজের কারণে। এই কাজের মাধ্যমেই আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার পরিবারও এই পেশার মাধ্যমে চলেছে।”
ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন অমিত হাসান। তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই আল্লাহকে ডাকব, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ব, রোজা করব, হজ করব। এগুলো আমার ধর্মীয় দায়িত্ব। পাশাপাশি অভিনয়ও করব। কারণ এই অভিনয়ের মাধ্যমেই মানুষ আমাকে চিনেছেন।”
ধর্ম ও কর্মকে আলাদা জায়গা থেকে দেখেন অমিত হাসান। তা স্মরণ করে এই অভিনেতা বলেন, “আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, ধর্ম এক জিনিস, কর্ম আরেক জিনিস। দুটোকে আমি নিজের জায়গা থেকে পালন করার চেষ্টা করি। আল্লাহ আছেন, আমি সবসময় সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি ধর্ম পালনও করার চেষ্টা করেছি।”
নিজের কাজ ও ধর্মীয় জীবনের মূল্যায়ন মানুষের হাতে নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন অমিত হাসান। তার ভাষ্য, “আমি কতটা ভালো করতে পেরেছি, কতটা পারিনি সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি। কাজের জায়গায় সৎ থাকার চেষ্টা করেছি, আর ধর্মের জায়গাতেও নিজের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।”