নিজস্ব প্রতিবেদক || নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের অর্থের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকায়। আগের অর্থবছর শেষে এ পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যক্তি বিনিয়োগ কমেছে ৪৫০ কোটি টাকা।
গত তিন বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগ কমল। এর আগে ২০২৩ সালের জুনে ব্যক্তি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ১ হাজার ১০২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে তা বেড়ে ৩ হাজার ৯৭৪ কোটি এবং ২০২৫ সালের জুনে ৭ হাজার ৯১৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মূলত সুদহার কমে আসায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া ও সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা সীমিত হওয়ায় ব্যাংকের আমানত এখনো তাদের কাছে বেশি পরিচিত বিনিয়োগ মাধ্যম।
ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগ কমলেও সরকারি সিকিউরিটিজে মোট বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সরকারি সিকিউরিটিজে মোট বিনিয়োগ বেড়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা।
এ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ। ফলে ব্যক্তির অংশগ্রহণ কমলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক সরকারি সিকিউরিটিজ বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ঋণের সুদহার নির্ধারণে স্মার্ট পদ্ধতি চালুর পর বাজারে সুদহার বাড়তে থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একপর্যায়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার ১২ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। উচ্চ রিটার্নের কারণে তখন সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক, দুই ধরনের বিনিয়োগকারীর আগ্রহই বাড়ে।
তবে, পরবর্তী সময়ে সুদহার কমতে শুরু করলে ব্যক্তিপর্যায়ে বিনিয়োগের প্রবণতাতেও পরিবর্তন আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯১ দিনের ট্রেজারি বিলের সুদহার ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ আগের উচ্চ সুদহারের সময়ের তুলনায় সরকারি বিলের রিটার্ন কমে যাওয়ায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বিকল্প বিনিয়োগ বা ব্যাংক আমানতের দিকে ঝুঁকেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যক্তি বিনিয়োগের সাম্প্রতিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বেড়েছিল।
সময় | ব্যক্তি বিনিয়োগ
জুন ২০২৩| ১,১০২ কোটি টাকা
জুন ২০২৪| ৩,৯৭৪ কোটি টাকা
জুন ২০২৫| ৭,৯১৯ কোটি টাকা
জুন ২০২৬| ৭,৪৬৯ কোটি টাকা
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্যক্তি বিনিয়োগ কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে, ২০২৬ অর্থবছর শেষে এসে সেই ধারায় ছেদ পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত টানা চার মাস বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে ছিল।
ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত তারল্যের একটি অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।