রাঙামাটি প্রতিনিধি || তিন মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর রাঙামাটির কাপ্তােই হ্রদে আবারো শুরু হয়েছে মাছ আহরণ। গত সোমবার মধ্যরাত থেকে মাছ আহরণ শুরু হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর থেকেই জেলেদের আহরণকৃত মাছ ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আনা হয় রাঙামাটির জেলার সর্ববৃহৎ অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসি ঘাটে। সেখানে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পল্টুন।
কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও মাছের আকার বড় না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। প্রত্যাশিত কাচকি মাছ কম আহরণ হয়েছে। আহরণকৃত মাছের মধ্যে চাপিলার সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। তবে, আকারে ছোট। ছোট আকারের চাপিলা ছাড়া কার্প জাতীয় অন্যান্য মাছ তেমন
একটা জালে ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছেন জেলেরা।
জেলে তারা মিয়া জানান, হ্রদে প্রচুর পানি এবং স্রোত থাকায় জাল টানা যাচ্ছে না। পানি স্থির না হওয়া পর্যন্ত জালে মাছ আসবে কম। তবুও দীর্ঘদিন পর জাল নিয়ে হ্রদে নামতে পারায় আমরা সবাই খুশি।”
তিনি বলেন, “মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বেকার সময় কেটেছে। পরিবার নিয়ে কষ্টে ছিলাম। আশা করি জালে মাছ আসবে। আমাদের কষ্ট দূর হবে।”
আরেক জেলে সালাউদ্দিন বলেন, “হ্রদের কয়েক জায়গায় জাল ফেলেছি। ৩০০ কেজির মতো মাছ পেয়েছি। সবই চাপিলা পোনা। কাচকি ও বড় মাছ খুব একটা পাইনি।”

জেলে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর কাপ্তাইয়ের বিএফডিসি ঘাট
কাপ্তাই হ্রদ বৃহত্তর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, “যা মাছ এসেছে, সব চাপিলা ছোট মাছ। এগুলো ঢাকায় পাঠালে দাম পাই না। এছাড়া, চাপিলাতে প্রতি কেজি রাজস্ব দিতে হয় ২১.৫০ টাকা। ঢাকা পৌঁছাতে আরো খরচ হয় কেজি প্রতি ৬০ টাকা। অর্থাৎ ঢাকা যখন পৌঁছায় তখন এর খরচ পড়ে ৮০ টাকা। এখন কত টাকা বিক্রি করব, আর জেলেদের কত টাকা দেব? সরকার যদি চাপিলাতে রাজস্ব কমিয়ে ১০ টাকা করে, তবে জেলেরা কিছু টাকা পেতো। প্রয়োজনে কাচকিতে ২ টাকা বাড়তি রাজস্ব নিক।”
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)তথ্য মতে, গত মৌসুমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করে রেকর্ড ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে তারা।
বিএফডিসি রাঙামাটি অঞ্চলের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, “মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বৃদ্ধির সুযোগ দেওয়ায় এবার সুফল পাওয়া যাবে। প্রথম দিনের সরবরাহ ও স্থানীয়দের উদ্দীপনা দেখে মনে হচ্ছে, এবার মাছ অবতরণ এবং রাজস্ব আদায়ে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হবে।”