গাইবান্ধা প্রতিনিধি || গাইবান্ধা পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেটের নামে ‘অবৈধ’ অর্থ আদায় বন্ধের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকেরা। লাইসেন্স ও নিবন্ধন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আওতায় নেওয়াসহ ৯ দফা দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শহরের ডিবি সড়কের গানাসাস মার্কেটের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। গাইবান্ধা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ এবং ফুলছড়ি উপজেলা রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা ইউনিয়ন যৌথভাবে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করে।
কর্মসূচিকালে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রখর রোদ আর তীব্র গরমের মধ্যে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিক্ষোভ শেষে একই স্থানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা গোলাম রব্বানী, ফুলছড়ি উপজেলা রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা ইউনিয়নের সভাপতি আফরুজা আব্বাস, সদর উপজেলার সহসভাপতি আনারুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু মিয়া প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গাইবান্ধা পৌরসভা ট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট দেওয়ার অজুহাতে অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছে। অনিয়ম বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
বক্তারা তাদের মূল দাবিতে উল্লেখ করেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স, নম্বর প্লেট ও রুট পারমিট পৌরসভা নয়, বিআরটিএর অধীনে দিতে হবে। একইসঙ্গে দেশে চলমান অসহনীয় লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা। অবিলম্বে পৌরসভার এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না করা হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন গাইবান্ধা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।
এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর হানিফ সরদার বলেন, আমরা ইজিবাইক, অটোরিকশা বা মিশুক থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছি না। নিয়ম অনুযায়ী নতুন গাড়ির লাইসেন্স করতে হলে বাৎসরিক চার হাজার ৬০০ টাকা এবং পুরাতন গাড়ির লাইসেন্স নবায়ন করতে তিন হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পৌর এলাকার ১২ থেকে ১৪ হাজার ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মিশুক চলে। লাইসেন্স করা না হলে অন্যান্য উপজেলা থেকেও এসব গাড়ি শহরে এসে ভিড় করে। এ কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই বলেও জানান পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা।