1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
রাকসুর বাকি দেড় মাস, কার্যকর হয়নি সিনেট - দৈনিক প্রথম ডাক
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন

রাকসুর বাকি দেড় মাস, কার্যকর হয়নি সিনেট

রাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে
দীর্ঘ সময় ধরে সিনেটের নিয়মিত অধিবেশন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় সিনেটের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে

রাবি প্রতিনিধি || দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও প্রায় ১০ মাস পরও তাদের শপথ ও সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে নির্বাচিত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেটের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর, অনুষ্ঠিত রাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও সিনেট শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনে পাঁচজন শিক্ষার্থী সিনেট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে সিনেটের জন্য পাঁচজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের পর দ্রুত শপথ ও সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশাও ছিল নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

তবে নির্বাচনের প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচিত পাঁচ শিক্ষার্থীর শপথ অনুষ্ঠিত হয়নি। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়নি সিনেটের কোনো অধিবেশনও। ফলে ভোটে নির্বাচিত হলেও সিনেটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময়েও হয়নি নিয়মিত অধিবেশন
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সর্বশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সিনেটের নিয়মিত অধিবেশন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় সিনেটের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সিনেটকে আবারো সক্রিয় করার প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু নতুন করে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও সিনেট অধিবেশন না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

পাঁচ প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও শপথ হয়নি
সিনেট শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনে পাঁচটি পদে নির্বাচিত হন সালাহউদ্দীন আম্মার, মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ফাহিম রেজা, আকিল বিন তালেব ও সালমান সাব্বির। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রায় ১০ মাস পার হলেও তাদের শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয়নি। শপথের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব কার্যকর হওয়া এবং সিনেটের অধিবেশনে তাদের অংশগ্রহণ—দুটিই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

সিনেটের পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, নীতিনির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে সিনেটের ভূমিকা থাকায় শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যাও সেখানে উঠে আসার কথা। কিন্তু সিনেট অধিবেশন না হওয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এখনো সেই সুযোগ পাননি। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রাকসু ভিপি ও সিনেট সদস্য মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে বিব্রত। এত শিক্ষার্থীর ভোটে সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত আমাদের শপথ পড়ানো হয়নি। বারবার বিষয়টি অবহিত করা সত্ত্বেও প্রশাসন সিনেটের অধিবেশন আয়োজনে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এত শিক্ষার্থীর ভোটে সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও তাদের শপথ না দেওয়া এবং সিনেট অধিবেশন আয়োজন না করা শুধু প্রশাসনিক অবহেলা নয়; বরং এর পেছনে ইচ্ছাকৃত কোনো এজেন্ডা রয়েছে বলেই আমরা মনে করি।”

রাকসু এজিএস ও সিনেট সদস্য সালমান সাব্বির বলেন, “সিনেট দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। রাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে এবার আমরা পাঁচজন শিক্ষার্থী সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত সিনেট কার্যকরের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখা যায়নি। বিগত ও বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার এ বিষয়ে কথা বললেও তারা নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। এটি প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব।”

খানিকটা ব্যাখ্যা করে সালমান সাব্বির বলেন, “সিনেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সিনেট কার্যকর হলে ভিসি নিয়োগ, বাজেটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিনেটের ভূমিকা থাকবে এবং প্রশাসনের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমবে। নিজেদের স্বার্থেই প্রশাসন সিনেট কার্যকর করছে না।”

সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত না হওয়া এবং নির্বাচিত পাঁচ শিক্ষার্থীর শপথ না হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান জানতে কথা হয় উপাচার্যের সঙ্গে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “সিনেট কার্যকরের বিষয়টি আমরা চিন্তাভাবনায় রেখেছি। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই সিনেটের অধিবেশন আয়োজন করতে পারব। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধান করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা সিনেটের কার্যক্রমের দিকে এগোচ্ছি।”

কতদিনের মধ্যে সিনেটের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, “বর্তমানে নির্বাচিত সিনেট সদস্যরা যেন তাদের দায়িত্বকালে একটা সিনেট অধিবেশন করে জেতে পারেন, আমরা সেদিকেই তাগাদা দিচ্ছি।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT