নিজস্ব প্রতিবেদক || বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “সরকারের জবাবদিহিতা মূলত জনগণের কাছে। গণমাধ্যম, তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সংসদে মন্ত্রীরা জবাবদিহি করছেন। সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এরপর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন। গণমাধ্যমের সামনে মন্ত্রীরা জবাবদিহি করছেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সামনে জবাবদিহি করছেন এবং পার্লামেন্টেও জবাবদিহি করছেন। এই জবাবদিহিতা মূলত জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে- এ কথা বলা যাবে না। তবে, এখান থেকে আরো উত্তরণ ঘটাতে হবে। জনগণ আরো শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ প্রত্যাশা করে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনার নেতৃত্বে দেশের সব অপরাধী আইনের আওতায় আসবে এবং তাদের বিচার হবে- এটাই জনগণের প্রত্যাশা। আপনার হাত দিয়ে দেশে একটি শান্তিময় পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করি। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন নিশ্চিত করতে হবে।”
মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, “দেশের মানুষ চায় কোনো ধরনের মাদকের প্রভাব থাকবে না। কোনো মাদক কারবারি, মাদকসেবী কিংবা মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত বড় ক্ষমতাশালীই হোক, সে যেন আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়।”
সম্প্রতি রংপুরে একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষক পরিবারের ওপর মাদকসেবীদের হামলায় চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না। মাদক সিন্ডিকেট কোথায় গড়ে উঠেছে, তাদের আস্তানা কোথায় এবং কারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে এসব চিহ্নিত করতে হবে। সিন্ডিকেটের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।”
রিজভী বলেন, “মানুষ খেয়ে-পরে শান্তিতে বসবাস করতে চায়। সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। সরকারের কাছে জনগণের এ প্রত্যাশা পূরণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “মহানবীর নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ ন্যায়ভিত্তিক হবে, রাষ্ট্রে ন্যায় ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে। একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে সরকার যে অঙ্গীকারগুলো করেছিল, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও বাস্তবায়ন করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।