1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
আমাদের গান শুনে কবি অস্থির হয়ে উঠলেন: ফেরদৌস আরা - দৈনিক প্রথম ডাক
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

আমাদের গান শুনে কবি অস্থির হয়ে উঠলেন: ফেরদৌস আরা

বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
কবি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রথম দর্শনের স্মৃতিচারণ করেছেন ফেরদৌস আরা

বিনোদন ডেস্ক || জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমে নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বহু অপ্রচলিত রাগের এই সুর স্রষ্টা সংগীত পরিচালনাও করেছেন। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র, নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ। আজ তার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী।

কাজী নজরুল ইসলামের গান গেয়ে খ্যাতি পেয়েছেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। প্রিয় কবির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ যেমন পেয়েছিলেন, তেমনই তাকে সরাসরি গান গেয়ে শোনানোর সৌভাগ্যও তার হয়েছিল। কয়েক বছর আগে কবির সঙ্গে প্রথম দেখার স্মৃতি নিয়ে একটি টিভি অনুষ্ঠানে কথা বলেন ফেরদৌস আরা।

এ আলাপচারিতায় ফেরদৌস আরা বলেন, “আমার জীবনে এটা খুবই সুন্দর একটা স্মৃতি। নজরুল যখন বাংলাদেশে আসেন, তাকে রাখা হয়—ধানমন্ডির ২৮ নম্বরের কবির ভবনে। অনেকেই তাকে দেখতে এসেছেন। আব্বা আমাদের দু-বোনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। আমরা উপরের তলায় গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি, ফুটফুটে দুটো মেয়ে ঘুরাফেরা করছে। তারাই হলেন—খিলখিল কাজী ও মিষ্টি কাজী।”

কবি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রথম দর্শনের স্মৃতিচারণ করে ফেরদৌস আরা বলেন, “আমাদের বলা হলো, কবিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে, আপনারা একটু পরেই ভেতরে ঢুকতে পারবেন। একটু পরে দরজা খুলে গেল। তখন তো একটা উৎসুক দৃষ্টি—কী যেন দেখব, কী যেন দেখব! ভেতরে গিয়ে দেখি, কবি শুয়ে আছেন। উনার পাশেই একটা শতরঞ্জি বিছানো, সেখানে একটা হারমোনিয়াম রাখা। তখন খিলখিলের মা উমা কাজী এবং কল্যাণী কাজীও ছিলেন। তারা বললেন, ‘তোমরা যে যেই গান গাইতো পারো, সেটাই গাও। উনি গান পছন্দ করেন।”

কবিকে গান শোনানোর কথা বললে ফেরদৌস আরার মনে বেশ কিছু প্রশ্ন জাগে। তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি তো ভীষণ দুষ্টু স্বভাবের ছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, উনি তো শুয়ে আছেন, উনি কীভাবে গান পছন্দ করবেন! তাছাড়া উনি কোনো কথা বলছেন না, উনি কীভাবে গান শুনবেন। নিশ্চয়ই উনি শুনছেন না। তাহলে উনি গানের কী বুঝবেন! এটা বাহাত্তর সনে ঘটনা। আমি তখন অডিশন দিচ্ছি বা দেব এমন আর কি!”

ফেরদৌস আরাদের গান শুনে অস্থির হয়ে উঠেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সেই ঘটনা বর্ণনা করে এই শিল্পী বলেন, “প্রিয় এমনো রাত যেন যায় না বৃথায়’ গানটি ওই সময়ে প্রায়ই গাইতাম। আমি এটা গাইলাম। ‘নীলাম্বরি শাড়ি পরে নীল যমুনায়’ গাইলেন আমার বোন। আমি নির্বাক কবিকে দেখলাম—উনি কিছু একটা বলবেন, সারাক্ষণ সেই চেষ্টা করছেন। কিন্তু মুখ থেকে বের হচ্ছে না। শোয়া থেকে উঠে বসলেন, আমাদের দিকে তাকাচ্ছেন। আমাদের দু-বোনের মুখের কাছে এসে দেখছেন আর কিছু বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুই বলতে পারছেন না। এরপর উনি আরো অস্থির হতে লাগলেন। যখন গানের সুন্দর অংশগুলো চমৎকারভাবে গাওয়া হচ্ছে, তখনই উনি আরো বেশি অস্থির হয়ে যাচ্ছেন।”

হারমোনিয়াম ফেলে ভয়ে কবির ঘর থেকে দৌড়ে পালান ফেরদৌস আরা ও তার বোন। তা স্মরণ করে এই শিল্পী বলেন, “এক পর্যায়ে কবি জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন, প্রকৃতি দেখলেন, আবার আমাদের দিকে তাকালেন। ফিরে এসে আবার বসলেন। আবার আমাদেরকে দেখছেন। হঠাৎ করে উনি বলে উঠলেন—‘বাহ!’ অনেক শব্দ করে শব্দটি বললেন। উনি এমনভাবে শব্দটি উচ্চারণ করলেন যে, আমরা হারমোনিয়াম ফেলে দৌড়ে বারান্দায় চলে গেলাম। ভয়ে কাঁপছিলাম।”

পরের ঘটনা বর্ণনা করে ফেরদৌস আরা বলেন, “সবাই দৌড়ে আসলেন। বললেন, ‘উনার কিছু পছন্দ হলে উনি এরকম করেন। উনার অভিব্যক্তি থেকে এটা করেন। খুবই কম সময় উনার মুখ থেকে এই শব্দটি বের হয়।’ আমরা বললাম, উনি তো ‘বাস’ বলেছেন, মানে থামতে বলেছেন। উনারা বললেন, ‘বাস’ না উনি বলেছেন ‘বাহ’। তোমরা আসো, আবার গাও। আমরা আবার গাইলাম। এই যে স্মৃতি, এটা আমার কাছে দুর্লভ!”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT