খেলাধুলা ডেস্ক || নতুন কোচ, স্কোয়াডে নতুন ফুটবলারদের ভিড়, তবু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পুরোনো সেই দাপটই ধরে রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে শুক্রবার রাতে আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনী দেখিয়ে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে এনজো মারেসকার দল।
সেলহার্স্ট পার্কে সিটির জয়ের নায়ক রায়ান চেরকি। ফরাসি এই মিডফিল্ডার করেছেন জোড়া গোল। তাঁর সঙ্গে গোলের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন সিটির গোল মেশিন আর্লিং হালান্ডও। ফলে লিগে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সিটি।
শুরু থেকেই আক্রমণে ধার দেখায় সিটি। প্রথম গোলটি করেন হালান্ড। এরপর ব্যবধান বাড়ান চেরকি। প্যালেসের একাধিক ট্যাকল এড়িয়ে দারুণ দক্ষতায় বল জালে পাঠান এই ফ্রেঞ্চম্যান।
তবে প্যালেসও দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক বারে লেগে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার গায়ে লেগে জালে জড়ালে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সিটি। চেরকি আবারও গোল করেন। দূরপাল্লার তাঁর শট ক্রিস রিচার্ডসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে প্যালেসের জালে ঢোকে। এরপর ফিল ফোডেনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে সিটির জয় নিশ্চিত করেন হালান্ড। প্যালেসের বিপক্ষে মাত্র ছয় ম্যাচেই এটি হয়ে গেল নরওয়েজিয়ান তারকার দশম গোল।
তবে জোড়া গোলের পরও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না চেরকি, ‘আমার পারফরম্যান্স মোটামুটি ছিল। প্রথমার্ধে তো আমরা কোন জায়গায় পাচ্ছিলাম না। আমিও বাজে খেলেছি। আমি আসলে গোল করতে চাই।’
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যান চেরকি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, পেপ গার্দিওলার পর সিটির নতুন যুগে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখতে চান তিনি। চেরকি বলেন, ‘পেপ ছিল একটা বিশাল এক যুগ, আমরা ভিন্ন আরেকটা যুগ শুরু করতে যাচ্ছি। আমরা সেটা প্রমাণ করার জন্যি এখানে আছি।’
এদিকে নতুন কোচ মারেসকার অধীনে সিটির মাঝমাঠে এখনো কিছুটা অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। ইনজুরি ও দলবদলের কারণে একাধিক খেলোয়াড়কে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করতে হচ্ছে। ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডের নতুন সাইনিং মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি ম্যাচের শেষ দিকে মাঠেও নামেন।
অন্যদিকে ফিল ফোডেনের ফর্মও সিটির জন্য নজরে রাখার বিষয়। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলে জায়গা না পাওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে বড় প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা রয়েছে। প্যালেসের বিপক্ষে কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পাননি তিনি। তবে পুরো ম্যাচ তাঁকে মাঠে রেখে দিয়েছেন মারেসকা।