বিনোদন ডেস্ক || পাহাড়ের শরীর ঢেকে আছে তুষারে। খানিকটা সময় পর পর্বতের শরীর বেয়ে নেমে আসে রাশি রাশি জল। অপ্রতিরোধ্য ঢেউয়ের ধাক্কায় চোখের পলকে খড়কুটোর মতো ভেসে যায় পাহাড়ের চূড়ায় থাকা একটি বাড়ি। তারপর চারপাশে জল আর মানুষের হাহাকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়ানো ভিডিও ক্লিপে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি মূলত হলিউড সিনেমা ‘২০১২’-এর দৃশ্য।
নেটিজেনদের অনেকে ভিডিও ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে ভিডিওটি শেয়ার করে একজন লেখেন, “এটা অবিশ্বাস্য, তারা তো ‘২০১২’ সিনেমায় এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল।” হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন—“নেপাল।”
পোস্টটি দ্রুত সময়ের মধ্যে নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আরো বেশ কয়েকজন এক্স ব্যবহারকারী নেপালের বন্যার ভিডিও শেয়ার করে ভিডিওটির সঙ্গে সাদৃশ্যগুলো তুলে ধরেন। ধ্বংসযজ্ঞের ফুটেজ শেয়ার করতে গিয়ে আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এই দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে—‘২০১২’ সিনেমাটি কল্পনাপ্রসূত ছিল না।”
গত ১৯ আগস্ট, হঠাৎ ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল। পাহাড় থেকে প্রবল বেগে নেমে আসা কাদা ও পানির স্রোতে যে চিত্রপট তৈরি হয়, তা কল্পনাতীত। কাদা-পানির স্রোতের দৃশ্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এজন্য অনেকে দাবি করছেন—“নেপালের ঘটনা নিয়ে ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘২০১২’ সিনেমায় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল।”
কিন্তু সত্যি কী ‘২০১২’ সিনেমায় এই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল? এ প্রশ্নের উত্তর জানাতে খানিকটা ব্যাখ্যা করতে হবে। কল্পবিজ্ঞানমূলক সিনেমা ‘২০১২’। সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে—পৃথিবীতে ব্যাপক ভৌগলিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ফলে সমুদ্রের জলস্ফীতিতে তৈরি হয় ভয়াবহ ‘মেগা-সুনামি’। সেই বিশাল জলরাশি হিমালয়ের দিকে ধেয়ে আসছে।
উপত্যকার মানুষজনদের বাঁচাতে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী মঠের ঘণ্টা বাজিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে চলেছেন। নেপাল বিপর্যয়ের সঙ্গে সিনেমার দৃশ্যের খানিকটা মিল থাকলেও এটি মোটেও নেপালের জন্য ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ ছিল না। কারণ সিনেমার ঘটনাগুলো কল্পনানির্ভর।
কল্পকাহিনিনির্ভর ‘২০১২’ সিনেমাটি পরিচালনার পাশাপাশি গল্পও রচনা করেন জার্মানির রোল্যান্ড এমেরিক। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন—জন কিউস্যাক, আমান্ডা পিট, অলিভার প্ল্যাট, ড্যানি গ্লোভার প্রমুখ। ২০০৯ সালের ১৩ নভেম্বর মুক্তি পায় এটি। ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত সিনেমাটি আয় করে ৭৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।