নিজস্ব প্রতিবেদক || হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকদের সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে নতুন প্রণোদনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় কারখানায় সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তারা মূল প্রকল্প ঋণের বাইরে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।
একই সঙ্গে দুই বছরের মধ্যে নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১৫ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের অংশ হিসেবে এ সুবিধা চালু করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, হিমায়িত খাদ্য শিল্পে কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড-চেইন পরিচালনায় বিদ্যুতের ব্যয় তুলনামূলক বেশি। উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সুবিধার আওতায় সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অথবা মূল প্রকল্প ব্যয়ের ৩০ শতাংশ, যেটি কম, সে পরিমাণ অতিরিক্ত ঋণ নিতে পারবেন। এই অর্থ মূল প্রকল্পের অর্থায়নের অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
৭ শতাংশ সুদে ঋণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ স্কিম থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে অর্থ পাবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ।
স্কিমের আওতায় নতুন কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, বিদ্যমান কারখানার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ২০ কোটি টাকা এবং চলতি মূলধনের জন্যও ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সংকটে থাকা রপ্তানিকারকরা অগ্রাধিকার পাবেন
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, চলতি মূলধনের সংকটে যেসব হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আংশিক বা পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ রেখেছে, তাদের এ তহবিলের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান এবং একই উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) বা রপ্তানি সহায়ক প্রি-ফাইন্যান্স তহবিল (ইএফপিএফ) থেকে অর্থায়ন নেওয়া প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না।
তহবিলের অর্থ পেতে মৎস্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও ছাড়পত্র থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগে হিমায়িত খাদ্য খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে, রপ্তানি প্রতিযোগিতা শক্তিশালী হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও সম্প্রসারিত হবে।