বিনোদন ডেস্ক || বলিউডের ‘গ্রিক গড’খ্যাত তারকা অভিনেতা হৃতিক রোশান। তার বড় ছেলে হৃহান রোশান এখন আর সেই ছোট্ট শিশুটি নেই! গুনে গুনে একুশে পা দিয়েছেন। তবে বাবার পথ অনুসরণ করে অভিনয়ে যাননি। তবে সংগীতশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন এই তারকাপুত্র।
কয়েক দিন আগে হৃহানের একক একটি গান মুক্তি পেয়েছে তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে। ‘দিস হেভেনলি পেলেস’ শিরোনামের ইংরেজি ভাষার গানটির গীতিকার, সুরকারও তিনি। স্পটিফাই ও অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গানটি শোনা যাচ্ছে।
দারুণ কথামালায় সাজিয়েছেন গানটি। প্রিয় একজন মানুষ কীভাবে আমাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করেন, একটি সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে নিজেদের ভুল কীভাবে সংশোধন করতে হয়—মূলত এসব বিষয়ই গানটির কথায় উঠে এসেছে।

গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন হৃহান রোশান
হৃহানের কণ্ঠ মৃদু অথচ এক ধরনের দৃঢ় টান রয়েছে, যা গানটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। সাদা-কালো ফরম্যাটে তৈরি গানের ভিডিওতে হৃহানকে গিটার বাজাতেও দেখা যায়। ফলে পুরো সংগীতায়োজনে তৈরি হয়েছে আবেগময় ও আত্মমগ্ন পরিবেশ।
গানটি শুনে ভূয়সী প্রশংসা করছেন নেটিজেনরাও। একজন লেখেন, “হৃহান, তুই তো ফাটিয়ে দিয়েছিস ভাই।” আরেকজন লেখেন, কী কণ্ঠ! রোশান পরিবারের জিনে প্রতিভা বংশানুক্রমে রয়েছে। পুরাই আগুন। বাবা নিশ্চয়ই ওর জন্য খুব গর্বিত।” অন্য একজন লেখেন, “যার পরিবার চলচ্চিত্র জগতে প্রভাবশালী, তার কাছ থেকে এমন গান আসাটা সত্যিই অসাধারণ। এগিয়ে যাও এবং হাল ছেড়ো না!” এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে ইউটিউবের কমেন্ট বক্সে।
কেবল নেটিজেনরাই নন, হৃহানের পরিবারও তার প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন। বাবা হৃতিক রোশান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলেকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন—“তুমি জন্ম থেকেই এক ধরনের সহজাত প্রজ্ঞা নিয়ে এসেছ ‘রে’। আমি সেটাকে এতটাই বিশ্বাস করি যে, এতে আমার কোনো ভয়ই নেই।”

মায়ের সঙ্গে হৃহান রোশান-হৃদান রোশান
হৃহানের মা সুজান খানও ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি ভীষণ আবেগাপ্লুত। তোমাকে সবসময়ের চেয়েও অধিক ভালোবাসি।” হৃতিকের বাবা, কিংবদন্তি পরিচালক রাকেশ রোশানও নাতিকে নিয়ে গর্বিত। তিনি লেখেন, “রে’, তোমাকে নিয়ে খুব গর্বিত। এভাবেই আরো ওপরে উঠে যাও।”
মুম্বাইয়ের ধীরুভাই আম্বানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন হৃহান। পরবর্তীতে আমেরিকান স্কুল অব বোম্বেতে যোগ দেন। স্কুল জীবন শেষ করার পর, হৃহান সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে পাড়ি জমান। সংগীত শিক্ষার অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান বার্কলি কলেজ অব মিউজিকে পড়াশোনা করেন। জানা যায়, কলেজে ভর্তির সময় মেধাভিত্তিক বৃত্তিও পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।
‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে হৃতিক রোশানের। ২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি মুক্তি পায় এটি। একই বছরের ২০ ডিসেম্বর সুজান খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৬ সালের মার্চে এই দম্পতি আনন্দের সাগরে ভাসেন প্রথম পুত্র হৃহানের জন্মের পর। ২০০৮ সালের মে মাসে দ্বিতীয় পুত্র হৃদান জন্মগ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তাদের পরিবার পূর্ণতা পায়।

বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে হৃহান রোশান
ভালোবেসে বিয়ে, তারপর এক যুগের দাম্পত্য জীবন সুজান-হৃতিক। বিয়ের বারো বছর পূর্ণ করার পর অর্থাৎ, ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর হৃতিক রোশান ও সুজান খান বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দেন।