খেলাধুলা ডেস্ক || প্রথম টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে সিরিজে পিছিয়ে পড়া পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টে দেখা গেল ভিন্ন রূপ। আব্দুল্লাহ শফিকের দারুণ সেঞ্চুরি আর বাবর আজমের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে সফরকারী দলটি।
ত্রিনিদাদের কুইন্স পার্ক ওভালে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৬৬ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৪৪ রানের জবাবে তারা এখনও পিছিয়ে ৭৮ রানে। তবে হাতে রয়েছে ৮ উইকেট। ক্রিজে অপরাজিত আছেন আব্দুল্লাহ শফিক ১০৭ ও বাবর আজম ৮৬ রানে।
অথচ শতকের দেখা পাওয়া শফিকের খেলারই কথা ছিল না এই ম্যাচে। এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান লাহোর কালান্দার্সের হয়ে গ্লোবাল সুপার লিগ টি-টোয়েন্টি খেলছিলেন গায়ানায়। আব্দুল্লাহ ফাজালের চোটে আচমকাই টেস্ট দলে ডাক পেয়ে গেলেন তিনি। জরুরি বার্তায় গায়না থেকে উড়ে গেলেন ত্রিনিদাদে। এরপর শান মাসুদের আঙুলের চোটে একাদশে ফেরার সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন শফিক। তিন নম্বরে নেমে ১৮৫ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পর টেস্ট একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই খেললেন স্মরণীয় ইনিংস।
অন্য প্রান্তে বাবরও ছিলেন স্বভাবসুলভ ছন্দে। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৫৮ রানের পর এবারও দলের ভরসার প্রতীক ছিলেন তিনি। ১২৬ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৮৬ রান করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। শফিক ও বারবর মিলে তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের হতাশ করেছেন। মাত্র ছয় দিন আগেই যেখানে পাকিস্তান ৭১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়েছিল ১২০ রানে, সেখানে এবার শফিক-বাবরের ব্যাটে আত্মবিশ্বাসী এক পাকিস্তানকেই দেখা গেল।
এর আগে ৫ উইকেটে ২৩৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ৩৪৪ রানে। জাস্টিন গ্রেভস ৭৩ ও অধিনায়ক রস্টন চেইস ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। পাকিস্তানের হয়ে অফ স্পিনার সাজিদ খান ৪ উইকেট শিকার করেন।