আন্তর্জাতিক ডেস্ক || থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লিগামী একটি বিমান মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) কবলে পড়েছে। এ ঘটনায় বিমানের অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আকস্মিক এই ঝাঁকুনির কারণে বিমানের অভ্যন্তরে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ১৩৪ জন যাত্রী নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই৩৭৯ ফ্লাইটটি থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। মাঝআকাশে বিমানটি স্বাভাবিক উচ্চতায় ওড়ার সময় (ক্রুজ মোড) হঠাৎই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝাঁকুনির কবলে পড়ে।
বিমানের যাত্রীরা জানান, আকাশপথে হঠাৎ করেই বিমানটির উচ্চতা দ্রুত কমতে শুরু করে। এতে সিটবেল্ট না বাঁধা বা দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা তীব্র ঝাঁকুনিতে আসন থেকে ছিটকে পড়েন।
এক যাত্রী ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “হঠাৎ করেই বিমানের উচ্চতা অনেকখানি নেমে যায়। ঝাঁকুনির চোটে আমার মাথা সজোরে বিমানের সিলিংয়ে গিয়ে আঘাত করে এবং আমি মেঝেতে পড়ে যাই।”
তবে চরম আতঙ্কের মাঝেও বিমানের পাইলট দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নেন। বিমানটি শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় এবং যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়।
অবতরণের পরপরই এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়। বিমানসংস্থাটি জানায়, “৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এআই৩৭৯ ফ্লাইটটি মাঝআকাশে ওড়ার সময় সাময়িক ঝাঁকুনির মুখোমুখি হয়, যার ফলে বিমানে মুহূর্তের জন্য উচ্চতার পরিবর্তন (উচ্চতা কমে যাওয়া) ঘটেছিল।”
বিবৃতিতে যোগ করা হয়, “বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সব যাত্রী ও বিমানকর্মী নিরাপদে নেমে গেছেন। এখনো পর্যন্ত মারাত্মক কোনো আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “সামান্য আঘাত পাওয়া অল্প কয়েকজন যাত্রী এবং কেবিন ক্রুকে সতর্কতামূলক পরীক্ষা ও পরিচর্যার জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানবন্দর টিম ও চিকিৎসকদের সহায়তায় বিমানবন্দরের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে।”