নিজস্ব প্রতিবেদক || শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, গণতন্ত্রকে স্থায়ী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
রবিবার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার‘-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, “গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সবাইকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একটি নির্বাচিত সরকার যেন আরেকটি নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারে, সেই পরিবেশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল— শুধু ব্যক্তি বা সরকারের পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেমন দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন হয়েছে, তেমনই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামের ধারাবাহিকতা।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ত্যাগ ও অবদানের কথাও তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, “দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর দেশের মানুষ নানা বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে সুসংহত করার চেষ্টা করছে এবং সেই প্রচেষ্টাকে সফল করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় না। এটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই, রাজনৈতিক আচরণ, সমালোচনা ও মতপ্রকাশ—সবকিছুতেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। গণতন্ত্র টিকে থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে। কিন্তু, গণতন্ত্র আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ পিছিয়ে পড়বে।”
আবদুস সালাম বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়। এটি ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তবে, এই আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের রক্ত, ত্যাগ ও নির্যাতনের কথাও স্মরণ রাখতে হবে।”
আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহ-সভাপতি মশিউর রহমান সুমন, অর্থ সম্পাদক নাসিম শিকদার, দপ্তর সম্পাদক ফরিদ আহমেদ প্রমুখ।