আন্তর্জাতিক ডেস্ক || যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনার কথা ইরান অস্বীকার করলেও, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর চূড়ান্ত ‘ধ্বংসাত্মক’ পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়ার আগে ইরানের সামনে এটিই চুক্তি স্বাক্ষরের ‘শেষ সুযোগ’।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধেই তিনি তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছেন।
ট্রাম্প বলেন, “একটি ভালো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য এটিই তাদের শেষ সুযোগ। চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ বা ধ্বংস করে দেওয়ার আগে আমি তাদের প্রতিটা শেষ সুযোগ দিতে চাই।”
ট্রাম্পের দাবি, বর্তমানে আলোচনা দুটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে- বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, হরমুজ প্রণালি চালুর সিদ্ধান্ত ‘মঙ্গলবারের (৪ আগস্ট) মধ্যেই’ আসতে পারে, তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো বৈঠক হচ্ছে না। তারা কেবল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।
তবে, ইরানের এই অবস্থানকে ‘প্রতারণামূলক’ আখ্যা দিয়ে সোমবার রাতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, তারা বহু বছর ধরে যে সংকট তৈরি করেছে, আমরা মূলত তারই সমাধান নিয়ে কথা বলছি। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বা ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো কিছুই বরদাশত করবে না।”
তিনি দাবি করেন, ইরান প্রকাশ্যে আলোচনার কথা অস্বীকার করলেও ব্যক্তিগতভাবে আলোচনার অনুরোধ করেছে।
তথ্যসূত্র: নিউ আরব