আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||ইউক্রেনের কাছ থেকে ‘ক্ষমা বার্তা’ পাওয়ার পর দেশটিতে পূর্বপরিকল্পিত তিনটি সামরিক হামলা বাতিল করেছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজাই জানান, ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে কিয়েভের কাছ থেকে ‘ক্ষমা বার্তা’ আসার পর এই সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকারে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কড়া বার্তা দেন এই সামরিক উপদেষ্টা। তিনি সতর্ক করে বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে ইরান নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো শত্রুভাবাপন্ন নৌযান ‘অবৈধ পথ’ ব্যবহারের চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।”
তিনি আরো দাবি করেন, সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সংঘাতে ইরান মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ওয়াশিংটনের সামরিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দিয়েছে।
মোহসেন রেজাই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার-ইন-চিফ। বর্তমানে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নীতি-নিধারণী পরিষদ এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলেরও সদস্য।
গত ২৫ জুলাই কাসপিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক ইরানি ক্রু সদস্য নিহত হন। ওই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে তেহরান। পরবর্তীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে আলাপকালে উক্ত হামলার বিপরীতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন রূপ নেয়, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং পরবর্তীতে সংঘাত অবসান ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে জুনে পাকিস্তান-মধ্যস্থতাকারী একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে গত মাসে সেই চুক্তি ভেস্তে যায় এবং প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ফের একে অপরের ওপর হামলা চালায়। বর্তমানে সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে ফের যুদ্ধ শুরু হওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।