আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনবহুল সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৪০ জন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি। এতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন দ্রুতগতিতে পাহাড়ের পাশ দিয়ে নেমে এসে সৈকতের ওপর বিধ্বস্ত হয় এবং বিকট বিস্ফোরণে আগুনের গোলায় পরিণত হয়। সে সময় সৈকতে ও পানিতে থাকা পর্যটকদের আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটতে দেখা যায়।
কৃষ্ণসাগরের তীরে আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের কাছের একটি সৈকতে এ ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ জানান, আহতদের মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি ইউক্রেনকে ‘বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা’ চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তবে ইউক্রেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ২০২২ সাল থেকে যুদ্ধরত রাশিয়া আর ইউক্রেন- দুই পক্ষই বেসামরিক লোকজনকে নিশানা করার অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।
ড্রোনটির মূল লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনীয় কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল দাবি করেছে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে ড্রোনটির সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কারণে এটি নিয়ন্ত্রণে না থেকে সৈকতে আছড়ে পড়ে। অন্যদিকে, রাশিয়ান সংবাদমাধ্যমের বরাতে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঠিক আগেই সেখানে মেশিনগানের গুলির শব্দ শোনা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার চেষ্টা করছিল।
ঘটনাটি ঘটে আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের কাছের একটি সৈকতে। মনোরম আবহাওয়া ও উন্নত সুবিধার কারণে এটি রাশিয়ান পর্যটকদের অত্যন্ত পছন্দের জায়গা, বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশে ভ্রমণ সীমিত হওয়ার পর থেকে এখানে ভিড় অনেক বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার আগে কোনো সতর্কতামূলক সাইরেন বাজেনি। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমরা সান লাউঞ্জারের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলাম, বিস্ফোরণ কোথায় হয়েছে বুঝতে পারিনি।” অপর এক পর্যটক বলেন, “আমার চোখের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে, আমার সন্তান ভয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের বহু গভীরে জ্বালানি ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত গুদামে হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার বেসামরিক এলাকাগুলোতেও হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন আবাসিক ও বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হন এবং একটি বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে যায়।